প্রথম পাতা

মাসের ব্যবধানে ২৬ শতাংশ বেড়েছে বিদেশি লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পতনের পুঁজিবাজারে আবারও লেনদেনে সক্রিয় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত আগস্টে লেনদেন কিছুটা কমে গেলেও সেপ্টেম্বরে এসে আবারও বেড়েছে তাদের লেনদেন। এক মাসের ব্যবধানে তাদের লেনদেন বেড়েছে ২৬ শতাংশ। চলতি বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে।

সক্রিয় বিদেশি বিনিয়োগ

সেপ্টেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৫৭৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করেছেন। আগস্ট মাসে যার পরিমাণ ছিল ৪৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়েছে ১১৯ কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশ। তবে এই সময়ে তাদের শেয়ার ক্রয় করার চেয়ে বিক্রয় করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
অন্যদিকে জুলাই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা করেছেন, যার পরিমাণ জুনে ছিল ৬০০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ জুলাইয়ে ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বাড়ে।
বিদেশিদের এমন তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সবসময় বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিনিয়োগ করেন। বাজারে এখন পতন চলছে। অর্থাৎ বেশিরভাগ শেয়ারের দরই বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বিদেশিদের লেনদেন বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক বুঝেশুনে বিনিয়োগ করেন। লাভে থাকায় হয়তো তারা এই গত মাসে বেশি বিক্রয় করেছেন। পোর্টফোলিও পরিবর্তন করার সময় এমন চিত্র দেখা যায়।
তিনি বলেন, এখন অনেক ভালো শেয়ারের দর তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তারা হয়তো এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। আমার মনে হয়, সব ধরনের বিনিয়োগকারীর এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সময়। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে।
এদিকে গত বছরের বেশিরভাগ সময় বিদেশিদের বিনিয়োগে ভাটার টান লক্ষ করা যায়। মূলত নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজার পরিস্থিতি কেমন হবেÑতা নিয়ে দোলাচলে ছিলেন তারা। যে কারণে গত বছর বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কমে যায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এ বছরের শুরু থেকেই বিদেশিদের লেনদেন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশিদের লেনদেন হয় প্রায় ৮১৫ কোটি টাকা। পরের মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন বেড়ে হয় ৮৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন ৫৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ২৬৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার। এ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে তাদের নিট বিনিয়োগ ছিল ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। জানুয়ারিতে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ ছিল ১৭৬ কোটি টাকা।
এদিকে মার্চে এসে লেনদেন আরও বাড়ে। ওই মাসে বিদেশিদের লেনদেন হয় ৮৭৪ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে তারা শেয়ার কেনার চেয়ে বেশি বিক্রি করেন। তবে এপ্রিলে এসে লেনদেনে কিছুটা ভাটা পড়ে। এ মাসে বিদেশিরা মোট ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, বিদেশিরা বাজারে ফিরে আসছেনÑএটি ভালো খবর। তবে বিনিয়োগ নিয়ে এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছি আমরা। কারণ হঠাৎ করে যদি তারা উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ তুলে নেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, সবাই পুঁজিবাজারে আসেন লাভ করার জন্য। সুযোগ এলে সবাই তা কাজে লাগাতে চান। বিদেশিরাও এর বাইরে নন। যে কোনো সময় তারা বিনিয়োগ তুলেই নিতে পারেন। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। তাদের উচিত, নিজেদের ইচ্ছামতো ভালোমানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার। এতে পুঁজিবাজারের যে কোনো বৈরী পরিস্থিতিতে তারা নিরাপদে থাকতে পারেন।

সর্বশেষ..