দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

মাস্ক ও পিপিই করোনার বিস্তার ঘটাচ্ছে কি?

কাজী সালমা সুলতানা: করোনাকালের গুরুত্বপূর্ণ সভা। সবার মুখেই মাস্ক। কয়েকজন হাতে গ্লাভসও পরেছেন। সভায় কয়েকজন প্রখ্যাত ব্যক্তিও উপস্থিত। সৃজনশীল মানুষ তারা। তাদের একজন আলোচনা শেষ করলেন। এখন অন্যদের পালা। আলোচনা বা কথা শেষ, তাই কোনো কাজ নেই সৃজনশীলদের এক সদস্যের। অন্যের বক্তব্যের প্রতি তার মনোযোগ তেমন নেই। কিন্তু চুপচাপ বসে থাকা তো এক ধরনের শাস্তি। কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা চাই। কী করা যায়, হয়তো ভেবে না পেয়ে মুখ থেকে মাস্কটা খুলে হাতে নিলেন। হাতে তিনি গ্লাভসও পরেছেন। মাস্কটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পরলেন তিনি। এভাবে মাস্কের গর্তের অংশটার ভেতরে হাত দিয়ে ঠিকঠাক করলেন। আবার মাস্কের ওপরের দিকের নোজ বারটা আঙুল লাগিয়ে সোজা করছেন, আবার বাঁকা করছেন। বারবার একই কাজ করছেন তিনি। কী ব্যস্ততা! ওই সৃজনশীল ব্যক্তির এমন কাণ্ড দেখে সভার এক সদস্য বললেন, মাস্ক হাতে নিয়ে যেভাবে নাড়াচাড়া করছেন, তাতে মনে হয় হাতে করোনাভাইরাস থাকলে তা নাকে ঢোকার অপূর্ব সুযোগ করে দিলেন! সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাস্কটা পরে ফেললেন!

এটা একটি ঘটনা মাত্র। প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ মাস্ক নিয়ে এমন কাণ্ডকারখানা করছে। আবার মাস্ক ব্যবহার করছে বলে স্বস্তিও বোধ করছে। অধিকন্তু এখনও রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। যারা ব্যবহার করছে, তারাও সঠিকভাবে নয়। অধিকাংশ মানুষই ভুলভাবে মাস্ক ব্যবহার করছে। অনেকেই নাক বের করে শুধু মুখে মাস্ক পরছে। কেউ কেউ গলায় ঝুলিয়ে রাখছে। অথচ করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করা। যখন করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে, তখনও এমন পরিস্থিতি সত্যি উদ্বেগের কারণ। দেখা যায়, বাজারে গিয়ে মাস্ক খুলে পকেটে পুরে রাখছে। আবার দোকান থেকে পাওয়া টাকা বা পয়সাও ওই পকেটে রাখছে। কারও সঙ্গে কথা বলার সময়ে মাস্ক খুলে হাতে নিচ্ছে, না হয় টান দিয়ে মুখের নিচে ঝুলিয়ে রেখে কথা বলছে। অনেকেই পরিষ্কার না করেই একই মাস্ক প্রতিদিন ব্যবহার করছে। অনেকেই জানে না, সার্জিক্যাল মাস্ক একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না। অফিস-আদালতেও দেখা যায়, মাস্ক খুলে টেবিলের ওপর রাখছে। মাস্কের যে অংশ মুখের দিকে থাকে, সে অংশই টেবিলের ওপর রয়েছে। অথচ ওই টেবিলে অনেক কাগজ বা ফাইলপত্র আসছে-যাচ্ছে। সেই ফাইল বা কাগজপত্রে একাধিক ব্যক্তির হাত লাগছে। এভাবে টেবিল থেকেও ভাইরাস মাস্কে যেতে পারে। একদল জার্মান বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, সঠিকভাবে নিয়মিত মাস্কের ব্যবহারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। জার্মানিতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পর অবিশ্বাস্য সাফল্য মিলেছে বলে দাবি করেছেন তারা।

মাস্ক ব্যবহার নিয়ে প্রথম থেকেই নানা ধরনের কথায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে। প্রথম দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, সবার মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। যদিও পরে এ বক্তব্য থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যে ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে সাধারণ কাপড়ের মাস্কে করোনার সংক্রমণ রোখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে একমাত্র ত্রিস্তরবিশিষ্ট মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০১৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সমীক্ষায় বলা হয়, একজন মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে। করোনাভাইরাস যেহেতু মুখ, নাক ও চোখের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তাই মাস্ক অন্তত মুখে হাত লাগা থেকে নিরাপত্তা দেয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে যেমন অব্যবস্থাপনা ছিল, তা লক্ষণীয়। একইভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পোশাক বা পিপিই নিয়েও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাস্ক কেনা নিয়ে ঘটে তুঘলকি কাণ্ড। এরপর শুরু হয় পিপিই নিয়ে সমস্যা। চিকিৎসকরা পিপিই ছাড়া দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করায় বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে চিকিৎসকদের জোর করে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার কথাও বলা হয়। বলা হয়, দায়িত্ব পালন না করলে চাকরি হারাতে হবে। কিন্তু পিপিই ছাড়া দায়িত্ব পালন যে অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধে পাঠানোর সমান, তা কেউ মানতে রাজি নয়। সাধারণ মানুষও চিকিৎসকদের তীব্র সমালোচনা শুরু করে। অথচ সে সময়েই দেখা গেল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা পিপিই পরিধান করে ফেসবুকে ছবি দিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্লজ্জের মতো। তাদের ভাব দেখে মনে হলো ঈদের পোশাক পেয়েছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন চিকিৎসক হয়েও অপেশাদারি ও সচিবালয়ভিত্তিক সাধারণ আমলার মতো আচরণ শুরু করলেন। এতসব বিভ্রান্তির পরও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে মাস্ক ও পিপিই ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষ কিছুটা বুঝতে সক্ষম হয়। মানসম্পন্ন মাস্ক ও এর ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে চিকিৎসকরা নানা মাধ্যমে বক্তব্য দেন। এ সুবাদে মাস্ক ও পিপিই নিয়ে বেশ ব্যবসাও শুরু হয়। এখন ওষুধের দোকান ছাড়াও যত্রতত্র মাস্ক ও পিপিই বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেখান থেকে সংগ্রহ করে এসব মাস্ক ও পিপিই ব্যবহার করছে। বিশেষ করে করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় মাস্কের কদর বেড়েছে। কিন্তু এসব মাস্ক বা পিপিইর গুণগত মান সঠিক কি না, তা দেখার কেউ নেই। এই মাস্ক করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কতটুকু কার্যকর, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত পিপিই বা মাস্কের সঠিক ব্যবহারবিধি সম্পর্কে কোনো প্রচারণা নেই। সম্প্রতি তথ্য অধিদপ্তর থেকে পিপিই ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে একটি তথ্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে গণমাধ্যমগুলোয়। কিন্তু সে তথ্যবিবরণীও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়নি। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খুব একটা প্রচারণা নেই। আমাদের দেশের মানুষ আগে কখনও মাস্ক ব্যবহার করেনি। করোনা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর মিছিল দেখে ভয়ে মাস্ক ব্যবহার করছে তারা। তাই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকাটা স্বাভাবিক। আর সঠিক ব্যবহার বিধি না জানা থাকলে মাস্ক ব্যবহারের সুফল পাওয়া যাবে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও বিপদের কারণ হতে পারে। একই ঘটনা পিপিইর বেলায় ঘটছে।

রাস্তাঘাটে দেখা যায়, অনেকেই পিপিই পরে চলাফেরা করছেন। দেখে মনে হবে খুবই সচেতন তারা। বাস্তবে তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাফেরা করেন। সাধারণ মানুষের চলাফেরায় পিপিই পরার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কারণ যিনি নিশ্চিতভাবে কোনো করোনা-আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যাচ্ছেন, তার জন্যই পিপিই ব্যবহার জরুরি। কিন্তু যথেচ্ছ মানের পিপিই’তে বাজার ছয়লাব। আর সাধারণ মানুষও সেই পিপিই পরে নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় যে, পিপিই’র ন্যূনতম ব্যবহারবিধিও অনুসরণ করছেন না তারা। দেখা যায়, পিপিই পরে বুক খোলা রেখে মাথার ক্যাপটি কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে তারা চলাফেরা করছেন। তাদের আচরণে মনে হয়, পিপিই দেখেই করোনা ভয়ে পালাবে। হয়তো পিপিই পরার কারণে বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে হাতমুখ পরিষ্কার করা বা পরনের কাপড় পরিষ্কার করাও প্রয়োজনবোধ করেন না তারা। আর এখানেই করোনা সংক্রমণের বড় ঝুঁকি রয়ে যায়।

মার্চের ৮ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তখন থেকেই করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্মসূচি সমালোচনায় পড়ে। ২৬ মার্চ অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা না করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে বিপুল মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এরপর হঠাৎ করেই তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আবার তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনা করোনাভাইরাস গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এই সমালোচনায় নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারেন কত বড় ভুল করে ফেললেন তারা। এরপর ঈদুল ফিতরে কেউ অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না বলে সরকার ঘোষণা দেয়। করোনা প্রতিরোধে ভালো উদ্যোগ হিসেবে বেশিরভাগ মানুষ সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। কিন্তু হঠাৎ করেই বলা হলো, ব্যক্তিগত গাড়ি বা যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যাবে। ‘ঘরমুখো বাঙালি, রণমুখো সৈনিক’আর কে রুধে! এবারে যা ঘটল তা বর্ণনাতীত। প্রকৃতপক্ষে এই অযৌক্তিক কর্মকাণ্ড সারা দেশে করোনাভাইরাস বিস্তারে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এখন পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই। একটি কর্মসূচি ছিল, বিনা মূল্যে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা। সেটিও এখন অর্থের বিনিময় করা হচ্ছে। দুপুরবেলার ব্রিফিং কোনো প্রতিরোধ কর্মসূচি হতে পারে? এভাবে কষ্ট করে কথা না বলে ওয়েবসাইটে দিলেও এসব তথ্য যাদের প্রয়োজন দেখে নিতে পারত। এখন মঞ্চায়ন হচ্ছে এলাকাভিত্তিক অবরুদ্ধতা বা লকডাউন। আস্তাবল থেকে ঘোড়া বের হয়ে যাওয়ার পর আস্তবলে লকডাউন করে কোনো লাভ নেই। দিন দিন সংক্রমণের মাত্রা বাড়ছে। এখন আর ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি নয়, বিভিন্নভাবেই করোনা সংক্রমণ ঘটছে। আক্রান্ত ব্যক্তিও বুঝতে পারছেন না, কীভাবে তিনি আক্রান্ত হলেন।

করোনা বিস্তারের ক্ষেত্রে যা ঘটে গেছে, তা আর ফিরে আনা যাবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সতর্কতাই করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার। আর সে ক্ষেত্রে মাস্ক হলো সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মাস্ক ব্যবহার ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ মাস্ক পরছে না। আবার যারা ব্যবহার করছে, তারাও সঠিক উপায় মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে আপাতদৃষ্টিতে মাস্ক ব্যবহার করেও অনেকেই নতুনভাবে সংক্রমিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আবার যারা অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে পিপিই ব্যবহার করছে, তারাও অনেকেই ভুলভাবে তা ব্যবহার করছে। ফলে সতর্কতা হিসেবে মাস্ক বা পিপিই পরলেও তার সঠিক ব্যবহার না জানায় বরং উল্টো ফল হচ্ছে। জাতীয় সংসদে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রথম দিকে সঠিকভাবে পিপিই পরতে না পারায় অনেক চিকিৎসক ও নার্স মারা গেছেন। কথাটা হাস্যকর। কারণ চিকিৎসক বা নার্সরা পিপিই বা মাস্কের সঙ্গে করোনার কারণে পরিচিত নন। তারা পড়াশোনা চলাকালেই এসবের ব্যবহার পদ্ধতি শিখে থাকেন এবং অনুশীলন করেন। মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত পিপিই ও মাস্ক সরবরাহ করলে চিকিৎসক-নার্সদের এত প্রাণহানি ঘটত না। কিন্তু পিপিই বা মাস্কের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমে। তাই পিপিই বা মাস্ক ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন। সেদিকে বিশেষ উদ্যোগ নিলে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর সুফল পাওয়া যাবে। তাই করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব এবং সঠিক উপায়ে ব্যবহার সম্পর্কে ব্যাপকভাবে প্রচার কার্যক্রম গ্র্রহণ করার এখনও যথেষ্ট প্রয়োজন আছে।

গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..