দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না সরকারি-বেসরকারি অফিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সরকারি অফিসের পাশাপাশি বেসরকারি অফিসগুলোতেও মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মাস্ক ছাড়া কেউ কোনো সেবার জন্য গেলে তাকে সেই সেবা দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে আনোয়ারুল বলেন, “শীতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে পারে ধরে নিয়ে চারদিকে ‘ম্যাসিভ ইন্সট্রাকশন’ দেওয়া হয়েছে। আমাদের যতগুলো ইনস্টিটিউশন আছে, সোশ্যাল, অর্গানাইজেশনাল বা ফরমাল প্রতিষ্ঠানে আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। এক নম্বর হলোÑ নো মাস্ক নো সার্ভিস। তারপর হলো সব জায়গায়, সব প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, শপিংমল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্মিলনে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা এটা কম্পালসরি করে দিয়েছি।”

সরকারি-বেসরকারি অফিসের বাইরে ‘মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না’Ñএরকম বড় একটা পোস্টার টানাতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কীভাবে মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হবেÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইন্সপেকশন করা হবে।’ তাহলে তো মাস্ক ছাড়া কেউ সরকারি-বেসরকারি অফিসে এলে সেবা পাবেন নাÑউল্লেখ করে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন একজন সাংবাদিক।

জবাবে আনোয়ারুল বলেন, ‘ঢুকতেই দেওয়া হবে না, আমরা বলে দিয়েছি। শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও। বিভিন্ন প্রডিউসার তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারাও তাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে সেটা চালু করছেন ইনশাআল্লাহ।’

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত জুলাই মাসের শেষদিকে বাসার বাইরে সব জায়গায় সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে সরকার। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে প্রতিদিনই মানুষ মারা গেলেও নানা অজুহাতে এখনও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রোববার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়, সেখানে কভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে যে, দিনে দুইবার নামাজের পর প্রচার করার জন্য যে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। আলেমা-ওলামাদের সঙ্গেও কথা বলেছি, উনারাও এটা শুরু করেছেন। করোনার সময় অন্যান্য রোগীদের সেবা পেতে সমস্যা হয়েছে, আবার দ্বিতীয় ঢেউ আসছেÑএখন আল্লাহর রহমতে ওই প্রবলেমটা হবে না। এখন একটা ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল চলে আসছে। ওই প্যানিকটা চলে গেছে। ইনিশিয়ালি তো বোঝা যাচ্ছিল না জিনিটা কী। ডাক্তার-স্টাফরাও এখন আর অত ভয় পাচ্ছেন না। আমি দু’একটি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি।’

এক প্রশ্নে আনোয়ারুল বলেন, ‘হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া আছে কভিড ও নন-কভিড দুটোকে আলাদা করে চিকিৎসা করা। ঢাকা মেডিকেলেই দেখেন কভিড আলাদা হয়ে গেছে, কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।’

গণপরিবহনে সবাই যাতে মাস্ক পরে তা নিশ্চিত করতে সড়ক সচিব, নৌ-সচিব এবং রেল সচিবের সঙ্গে দু-একদিনের মধ্যে বসবেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বসে একটা ওয়ার্ক আউট করা যাবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভাকে জানায় বাংলাদেশে এখন ৯৩টি কেন্দ্রে কভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ৫০টি বেসরকারি। আনোয়ারুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দুই হাজার চিকিৎসক এবং চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ায় কভিড-১৯ হ্যান্ডেল করার ক্ষেত্রে খুবই বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করেছে।

‘এর বাইরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দুই হাজার ৬৫৪ জন টেকনিশিয়ান ও সহকারীকে নিয়োগ দিয়েছে।’

এছাড়া পাঁচ হাজার ১০০ চিকিৎসক এবং এক হাজার ৭০০ নার্সকে আইইডিসিআরের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ম্যানেজমেন্ট ও ইনফেকশন প্রিভেনশন কন্ট্রোল বিষয়ে ওরিয়েনটেশন দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে তারা মাঠ পর্যায়ে করোনা মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছেন বলে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি কভিড-১৯ বিষয়ক পুরো কাজ মনিটর করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার আলোকে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুসারে এ যাবত গৃহীত কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

‘কভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন সংগ্রহে উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। কোথা থেকে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন পেতে পারি, সে বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জারি আছে। আশা করি, প্রথম দিকেই আমাদের ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

চীনের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওটা নিয়ে কাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়েই অ্যাফোর্ডগুলো নেওয়ার জন্য বলেছে। চীনের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়ে রেখেছি, বিষয়টি আটকে নেই, তাদের ফান্ডিংয়ের শর্টেজ আছে, সেটা নিয়ে আলোচনা করছে তারা, বাংলাদেশের কাছে সম্ভবত কিছু ফান্ডিংয়ের অ্যাপ্রোচ করবে।’

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে আনোয়ারুল বলেন, ‘সেটা ভালোভাবেই আগাচ্ছে।’

সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপের সঙ্গে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..