প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মাস শেষে ছুটির প্রভাব : কাঁচাবাজারে ক্রেতা কম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন দিন ছুটি। অনেকেই গ্রামে গেছেন। অন্যদিকে বছরের শেষ সময়। মাসও শেষের দিকে। ব্যয় কমাতে চেষ্টা করছেন মধ্যবিত্তরা। এসব প্রভাবিত করে বাজারকে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক বাজারের দিনে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ছিল অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা ছিল আগের সময়ের চেয়ে অনেক কম।

টানা ছুটি ও বছরের শেষ সময় হওয়ায় এমন অবস্থা বলে জানান বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারের এক মাছ বিক্রেতা ক্রেতাশূন্যের কথা প্রসঙ্গে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এখন বাজার দেখে কি মনে হয় শুক্রবারের বাজার এটা? ক্রেতাই তো নেই। অনেকেই গ্রামে গেছে। কাল থেকে বেচাকেনা কম। গতকাল মাছ বিক্রি করতে পারিনি। আজও পারবো বলে মনে হয় না।’

আরেক মাছ বিক্রেতা এগিয়ে এসে বলেন, এমনিতেই লোক নেই, যারা আসছে নতুন শাকসবজি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। এখন মাছ-মাংসের বাজারে বিক্রি থাকে না। দোকান খোলার পর থেকে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এক টাকাও বিক্রি হয়নি।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজ বলেন, ‘বছরের শেষ হলে সবার টাকার প্রয়োজন বেড়ে যায়। কারণ রাজধানীর সবার ছেলেমেয়ের ভর্তির খরচ, তাদের নতুন পোশাক, শীতের কারণে বাড়তি খরচ, অনেকের আবার বাসা-বাড়ি পরিবর্তন সব একসঙ্গে পড়েছে। তাই সবাই এখন টাকা বাঁচানোর চিন্তা করছে। শুধু এ বছর নয়, প্রতিবছরের এ সময় বাজারে ক্রেতা আনাগোনা কমে যায়।’

সরেজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরেও প্রমাণ মিললো তার কথার। অন্য যে কোনো শুক্রবারের বাজারের তুলনায় ক্রেতা কম দেখা গেছে সব বাজারেই। কারওয়ান বাজারে চালের আড়তগুলোতে ঢুুকতেই দেখা যায় নীরবতা। সব দোকান খোলা থাকলেও অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। অলস সময় পার করছেন চালের দোকানিরা। মাঝেমধ্যে ক্রেতা এলে, হাঁকডাকে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিক্রেতারা।

তারা বলছেন, এ সময় নতুন চাল এসেছে। অনেকে গ্রাম থেকে চাল কিনছে। আবার অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে চাল আনছে। তাই বিক্রি নেই। যা বিক্রি হয় তাও রাজধানীতে মানুষের চাপ কম থাকায় হচ্ছে না।

তবে ক্রেতা কম থাকলেও প্রভাব নেই পণ্যের দামে। এসব বাজার ঘুরে দেখা গেল শুধু শীতকালীন সবজি ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের দরের পরিবর্তন নেই। আর স্বাভাবিকভাবেই কয়েক পদের শীতের সবজি, যেসব পণ্যের  সরবরাহ বেড়েছে সেগুলোর দাম সামান্য কমেছে।

বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি শিম ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৪০-৪৫ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, শালগম ২৫-৩০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ১০-১৫ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে।

এদিকে বাজারে সরবরাহ ভালো লক্ষ করা গেলেও লেবু আগের দামে হালিপ্রতি ২০ টাকা, পালংশাক ২০ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নতুন আলুর প্রকারভেদে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ২৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

হাতিরপুলের বিক্রেতা সফি বলেন, শীতের সবজির দাম কিছুটা কমলেও সারা বছরের সবজি একই দামে রয়েছে। শীতের ফুলকপি ও পাতাকপি প্রতি পিস গত সপ্তাহে ২০ আর ২৫ টাকা বিক্রি করেছি; এই সপ্তাহে পিসপ্রতি প্রায় পাঁচ টাকা কম। একইভাবে শিম, আলু, পেঁয়াজকলি, শালগম আসছে বেশি তাই দাম কম। সরবরাহের তুলনায় বিক্রি কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই কমেছে এসবের দাম।

দামের পরিবর্তন নেই মসলার বাজারের আদা-রসুনের। আগের চড়া দামে প্রতি কেজি দেশি আদা ১২০ টাকা, চীনা আদা ১০০ টাকা, দেশি রসুন ১৬০ টাকা এবং চীনা রসুন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাংসের বাজারেও ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা, গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪২০-৪৫০ টাকা ও দেশি মুরগি হালি ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা আগের দামে রয়েছে।

মাছের বাজার বাজারে তেলাপিয়া, পাঙাশ, সিলভারকাপ মাছ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বড় সাইজের দেশি রুই, কাতল বা মৃগেলের মতো মাছ ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি। অন্যদিকে দেশি শৈল, কই, টাংরা মাগুর মাছের দাম রয়েছে আগের মতোই রয়েছে।

একইভাবে চালের বাজারে প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৩৮ টাকা, পারিজা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট চাল ৪৬-৫৪ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৪৮-৫৫ টাকা, বাসমতি ৫৬-৬০ টাকা, কাটারিভোগ ৭৪-৭৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।