প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

মা-বাবার পাশে খোকার দাফন

নেতাকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুরে তার মরদেহ নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে আনা হলে অশ্রুজলে প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তারা।

বিএনপির কার্যালয় থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে। সেখানে জানাজা শেষে গোপীবাগে পৈতৃক বাসভবনে কিছুক্ষণ রাখা হয় খোকার মরদেহ। সেখান থেকে বাদ আসর ধুপখোলা মাঠে সর্বশেষ জানাজার পর জুরাইনে মা-বাবার পাশে দাফন করা হয় এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে।

প্রথমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রয়াত নেতার কফিনটি দলীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দেওয়া হয়।

কালো কাপড়ে মোড়া অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয় খোকার কফিন। নেতাকর্মীদের কফিনের সামনে কাঁদতে দেখা যায়। বিএনপি মহাসচিবসহ নেতারাও অশ্রুসজল ছিলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা, দুর্র্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা, দুবারের নির্বাচিত ঢাকার সাবেক মেয়র, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগরের সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এমন একসময় চলে গেলেন যখন আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি তাকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না। আজকে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতনে সারা দেশের মানুষ যখন অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত, সেই সময়ে যে মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল সাদেক হোসেন খোকা তার অন্যতম। তিনি চলে গেছেন; তার বর্ণাঢ্য রাজনীতির কথা বলার সময় নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকার এই অকালে চলে যাওয়ায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা পূরণ হওয়ার নয়। আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি তিনি যেন তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাকে বেহেশত নসিব করেন।’

দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বাবার আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া চান।

এর আগে কার্যালয়ের সামনে খোকার জানাজায় ইমামতি করেন উলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ নেছারুল হক। এরপর তার কফিনে স্যালুট জানায় সেক্টার কমান্ডার শাহজাহান ওমরের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সকাল ৮টা থেকে নয়াপল্টনের অফিসের নিচতলায় কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, হাবিবউন নবী খান সোহেল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসহ দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশ নেন। ২০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, শামীম সাঈদী, খোন্দকার লুফর রহমান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামসহ নেতারাও জানাজায় অংশ নেন।

নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত সড়ক ও তার আশপাশের গলিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক জানাজায় দাঁড়ান। পুরো পল্টন রোড কানায় কানায় পূর্ণ হয়। তখন ফুটপাতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাও মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা জানান।

১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জš§গ্রহণ করেন সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৮৪ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন খোকা। আর ১৯৯১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সেøায়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদেক হোসেন খোকা মারা যান। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বাদ এশা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এই মুক্তিযোদ্ধার কফিন। “

সর্বশেষ..