প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মিথ্যা ঘোষণার দায়ে ফারিয়া টেক্সটাইলকে জরিমানা

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: নরসিংদী সদর ছৌয়ালা এলাকার আমদানিকারক ফারিয়া টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে এক লাখ ২০ হাজার কেজি ওজনের ৬০ ইউনিট সেকেন্ড হ্যান্ড র‌্যাপিয়ার লুমস (তাঁত) আমদানির ঘোষণা দিয়ে অতিরিক্ত আট হাজার ২৫০ কেজি নাট-বোল্ট নিয়ে আসে, যা বিল অব এন্ট্রিতে উল্লেখ ছিল না। ফলে মিথ্যা ঘোষণায় অতিরিক্ত পণ্য আমদানির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্যের শুল্ক বাবদ আরও ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সূত্রে জানা যায়, ফারিয়া টেক্সটাইল চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সেকেন্ড হ্যান্ড র‌্যাপিয়ার লুমস (তাঁত) আমদানির ঘোষণা দেয়। সে মোতাবেক সিএসসি নেপচুন নামক জাহাজে করে চীন থেকে পণ্যগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। তারপর চালানটি খালাসের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই আমদানিকারক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বিল অফ এট্রি দাখিল করে, যা কাস্টম হাউসের সেকশন-৫(বি)-এর মাধ্যমে খালাস হওয়ার কথা। তারপর সেকশন-৫(বি)-এর নির্দেশনা মোতাবেক পণ্য চালানটি স্কর্টিংয়ের মাধ্যমে আমাদানিকারক ফারিয়া টেক্সটাইল কারখানা প্রাঙ্গণে চালানের পাঁচটি কনটেইনার সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির সহযোগিতায় এআইআর কর্মকর্তা, সেকশন-৫(বি)-এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং এয়ারপোর্ট কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা যৌথভাবে পণ্যের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে। তাতে আমদানিকারকের ঘোষণা মোতাবেক এক লাখ ২০ হাজার কেজি ওজনের ৬০ ইউনিট তাঁত আমদানির পাশাপাশি অতিরিক্ত আট হাজার ২৫০ কেজি নাট-বোল্ট পাওয়া যায়। যার মধ্যে দুই হাজার ৫০০ কেজি বোল্ট ও পাঁচ হাজার ৭৫০ কেজি নাট রয়েছে, যা বিল অব এন্ট্রিতে উল্লেখ করেনি আমদানিকারক।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার কর্মকর্তারা জানান, পণ্য চালানটির পাঁচটি কনটেইনার (ট্রেইলরসহ) সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা হেফাজতে সংরক্ষিত ছিল। নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালীন কনটেইনারে যে সিল ব্যবহার করা হয়েছিল স্কর্টিংয়ের পূর্বে তার সঠিকতা নিশ্চিত করা হয় এবং কারখানা প্রাঙ্গণে কায়িক পরীক্ষার পূর্বেও সিল রক্ষিত পাওয়া যায়। তারপর ১ আগস্ট পণ্যগুলো শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে ঘোষণাবহির্ভূত অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়, যা কাস্টম আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে পরিগণিত। বিষয়টি ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের সেকশন ১৫৬(১) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে মিথ্যা ঘোষণায় অতিরিক্ত পণ্য আমদানির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পণ্যের শুল্ক আসে আরও ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ পণ্য চালানটি খালাস করেতে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করতে হবে ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

চালানটি আমদানির জন্য এসসি করা হয়েছিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে এবং পণ্যগুলো খালাসে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে চট্টগ্রাম নগরীর চৌমুহনী এলাকার প্রতিষ্ঠান নিরা এন্টারপ্রাইজ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র উপ-কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) সালাউদ্দিন রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চালানটি আমদানির বিপরীতে আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণায় অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করেছে; যা বিল অব এন্ট্রিতে উল্লেখ ছিল না। এতে সরকারের রাজস্ব হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎপরতায় সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে ন্যায়বিচারের সার্থে পতিষ্ঠানটিকে জরিমানাও করা হয়েছে।’