বিশ্ব সংবাদ

মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটিতে গণতন্ত্রীপন্থিদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে সেনা অভ্যুত্থানে যুক্ত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। নতুন এ পদক্ষেপের আওতায় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ছাড়াও রয়েছেন সেনা সরকার গঠিত স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের আরও পাঁচ সদস্য। এছাড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো আর ব্যবসা করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের গঠিত নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ওই নির্বাচনের ফলকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। খবর: আল জাজিরা, বিবিসি।

গত ১ ফেব্রুারির অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলছে। ওই দিনই অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। গত তিন সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিনই সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-ধর্মঘট চলছে। সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বৃহস্পতিবারও ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেয় শিক্ষার্থীরা। তবে বিক্ষোভকারীদের সবাই সমবেত হওয়ার আগেই প্রায় সেনাবাহিনীর প্রায় এক হাজার সমর্থক সমাবেশ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি গুরুতর রূপ ধারণ করে এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবারও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।

মিয়ানমারে বিক্ষোভের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছাড়াও দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আবারও পর্যালোচনা করে দেখার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকের প্যাকেজ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের সেনা শাসকদের পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়েছে যে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ী তাদের জবাবদিহি করতে হবে আর মিয়ানমারের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সরকারি দায়িত্ব অবশ্যই হস্তান্তর করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের নতুন এ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আওতায় পড়া ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্য সফরের অনুমতি পাবেন না আর দেশটিতে থাকা তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যও করতে পারবেন না তারা।

এর আগে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।

নভেম্বরের নির্বাচনের ফল অবৈধ ঘোষণা গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের গঠিত নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ওই নির্বাচনের ফলকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় দৈনিক ইরাবতীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর গতকাল শুক্রবার রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান থেইন সোয়ে নভেম্বরের নির্বাচনের ফলকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেন।  

গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সুচিসহ নির্বাচিত নেতাদের বন্দি করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী জেনারেলদের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান থেইন সোয়ে নির্বাচনের ফল অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন।

গত নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। দেশটির সাধারণ মানুষ নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়ার দাবিতে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরুর মধ্যেই জান্তা সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়বে। এদিকে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে আবারও চড়াও হয়েছে দেশটির সামরিক সরকার।

সেনাবাহিনীকে নিষিদ্ধ করল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং এর সব সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। ‘ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে তাতমাডাও-কে (মিয়ানমার সামরিক) অনুমতি দেয়া হলে তার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে’, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।

২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার জালিয়াতির দাবি ছড়িয়ে দিতে ব্যাপকভাবে ফেসবুক ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ফেসবুক ব্যবহার করে এবং অনেকের কাছেই এটি ইন্টারনেটের একটি সমার্থক শব্দের মতো। অভ্যুত্থানের পর নির্দেশিকা লঙ্ঘনের কারণে সেনাবাহিনীর মূল পৃষ্ঠাটি নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তাতমাডাও সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া জানানো হয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বহাল থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..