সম্পাদকীয়

মিয়ানমারের বক্তব্য নজরে আনুন আন্তর্জাতিক মহলের

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর প্রত্যাশা ছিল দেশটির সরকার দ্রুত তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করবে, সে জন্য বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেছে এবং এখনও অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এদেশে তাদের অবস্থান প্রায় আড়াই বছর হতে চললেও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে প্রতিবারই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা স্পষ্ট। অথচ দেশটির সরকার নানাভাবে বাংলাদেশের ওপর দায় চাপিয়ে আসছে ধারাবাহিকভাবে, যা সংকট আরও বাড়াবে বলেই আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধ্য করতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনা উচিত বলে মনে করি।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘মিয়ানমারের ভাষ্য: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা বাংলাদেশের অসহযোগিতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-নেপিদো সহযোগিতার মধ্য দিয়েই শুধু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করছে মিয়ানমার। তবে দেশটির সরকার দাবি করেছে, ঢাকার অসহযোগিতা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ। এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে থাকায় বাংলাদেশকে দায়ী করেছিলেন, যা হতাশাজনক।

কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের খুন, মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছেন অনেকে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাদের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে আরও নানা ক্ষেত্রে। এ অবস্থায় দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সে অনুযায়ী সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের এ ধরনের অভিযোগ তাদের দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ বৈকি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। অথচ চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাও দেশে ফেরেনি, যা উদ্বেগজনক। মূলত আবারও হামলার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা ফিরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এ জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মিয়ানমারকে অবশ্যই উদ্যোগী হতে হবে। দেশটির এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অজানা নয়। সে জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের আর্থসামাজিক নানা ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে, ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ফলে দীর্ঘদিন তাদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশর জন্য অসম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..