বিশ্ব সংবাদ

মিয়ানমারে জেড খনিতে ভূমিধসে নিহত শতাধিক

শেয়ার বিজ ডেস্ক : মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জেড পাথরের একটি খনিতে ভূমিধস হয়েছে। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কাচিন রাজ্যের জেড পাথরসমৃদ্ধ হপাকান্ত এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা তার লিন মাউং এ তথ্য জানান। খবর: রয়টার্স।

ওপেন পিট পদ্ধতিতে খোঁড়া এসব খনিতে রতœপাথর খোঁজার সময় মাটি, কাদা ও খনি বর্জ্য সরিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়, যাকে বলে টেইলিং। ভারি বর্ষণের মধ্যে শ্রমিকরা পাথর সংগ্রহ করার সময় আড়াইশ’ ফুট উঁচু বিশাল এক কাদার স্তূপ ধসে পড়ে। ফলে খনিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে জল-কাদার বিশাল  ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং বহু শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রী উ তিন সোয়ে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

পুলিশ বলছে, ওই এলাকায় বুধবার সতর্কতা জারি করা হয়। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে লোকজন এ সতর্কতা কানেই তোলেনি। সে কারণেই এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

বিশ্বে সবুজ রঙের প্রায়-স্বচ্ছ রত্ন পাথর জেডের সবচেয়ে বড় উৎস মিয়ানমার।  সেখানে উত্তোলিত জেড পাথরের বেশিরভাগটাই প্রতিবেশী দেশ চীনে রপ্তানি হয়।  দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন প্রদেশ আর হপাকান্ত জেডের খনির জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সরকারের কার্যকর তদারকি না থাকায় সেখানে প্রায়ই প্রাণঘাতী ভূমিধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে। মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় মিয়ানমারে বর্ষা মৌসুম চলে। এ সময়ে হপাকান্তের সব খনিতে কাজ বন্ধ রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে, যারা স্বাধীন রত্ন সন্ধানী। বড় খনিগুলো অনুসন্ধান চালানোর পর পড়ে থাকা অবশিষ্টাংশের মধ্যে রত্ন খোঁজেন তারা। 

সবুজ রঙের মূল্যবান জেড পাথর সাধারণত অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহƒত হয়। বিশ্বে এ ধরনের পাথরের সবচেয়ে ভালো উৎস মিয়ানমার। দেশটির জিডিপির একটা বড় অংশই আসে এ খাত থেকে। চীন বার্মিজ জেড পাথরের বৃহৎ বাজার হিসেবে পরিচিত। চীনারা এটিকে ‘স্বর্গের পাথর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। আর এ জেড পাথর খাতে মিয়ানমারের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..