বিশ্ব সংবাদ

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তা সমর্থকদের হামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর ছুরি, লাঠিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে বেশ কয়েকজন আহত হন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংকট সমাধানের উদ্যোগের মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছে ১৩৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনীকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। খবর: রয়টার্স, আল জাজিরা, এএফপি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, টানা বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় গতকালও আন্দোলন শুরু করেন মিয়ানমারের মানুষ। এ সময় সামরিক বাহিনীর সমর্থনে প্রায় এক হাজার মানুষ মিছিল শুরু করে ইয়াঙ্গুনে। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারা সংবাদকর্মীদের হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। একটি ভিডিও ফুটেজে তাদের ছুরি নিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থীদের আটকে দেয় পুলিশ।

এদিকে মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছে ৩১টি দেশের ১৩৭টি এনজিও। জাতিসংঘের কাছে লেখা এক যৌথ চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

এনজিওগুলো বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিশেষ বিশেষ খাতে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এছাড়া জান্তা নেতা ও সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি জব্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে চীন, ভারত, ফিলিপাইন, রাশিয়া, ইসরাইল, উত্তর কোরিয়া, ও ইউক্রেনসহ যেসব দেশের সরকার মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, তাদের অবিলম্বে এসব সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক কেনেথ রথ লিখেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো নিষ্ঠুরতা, দশকের পর দশক ধরে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ ও সর্বশেষ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ঘটনার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

এদিকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন সহায়তা দেয়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে জাপান। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জাপান মিয়ানমারে নতুন করে উন্নয়ন সহায়তা দেয়া বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অপরদিকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে নিজ প্ল্যাটফর্ম ও ইনস্টাগ্রাম থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। এর ফলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এ দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ঘটনাপ্রবাহের কারণে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ফেসবুক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়েছে। তাদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে দিলে বড় ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

মিয়ানমারে সামরিক শাসন নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধানের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ ইন্দোনেশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। তিনি মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আলোচনা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হবে। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার এবং সহিংসতা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..