বিশ্ব সংবাদ

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের হত্যায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা

শেয়ার বিজ ডেস্ক:মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলে নেয়ার পর দেশজুড়ে চলা এ বিক্ষোভে রোববার সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। খবর: রয়টার্স, আল-জাজিরা।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং তাদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে বর্মি সেনাবাহিনীকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়ার আহ্বান জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল জানান, এ ঘটনায় শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে ইইউ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সামরিক কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নাগরিকদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।

বর্মি নিরাপত্তা বাহিনী বার্মার জনগণের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য সহিংসতা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি সহিংসতা থামানো এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য কর্তৃক এরই মধ্যে অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন তিনি।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বর্মি কর্তৃপক্ষের প্রতি দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই নিয়মিত বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে রোববার বিক্ষোভকারীদের ওপর চূড়ান্ত রকমের সহিংস ভূমিকায় দেখা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। এদিন পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। ইয়াংগুন, দাওয়েই ও মান্দালয় শহরে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয়। বিক্ষোভ দমনে শনিবার থেকে বড় ধরনের ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

আদালতে দেখা যায় অং সাং সু চিকে: মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে আদালতে আরও একটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার যখন বিক্ষোভকারীরা জান্তা সরকারের বিরোধিতায় আবারও রাস্তায় নেমে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেদিনই সু চির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে তার একজন আইনজীবী জানিয়েছেন।

আইনজীবী মিন মিন সোয়ে বলেন, রাজধানী নেপিদোতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন অং সান সু চি। এ সময় তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে সম্ভবত তার ওজন কমে গেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এনএলডির এ নেত্রীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

অভ্যুত্থানের দিন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো নেত্রীকে আটক করে সেনাবাহিনী। এর আগে মিয়ানমারের এ নেত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ছয়টি ওয়াকিটকি আমদানি এবং আইন লঙ্ঘন করে তা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস প্রোটোকল না মেনে জনসমাবেশ করায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ গঠন করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..