প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মিলারের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: শূন্য রানে মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে জীবন ফিরে পেয়েছিলেন। এরপর আর কোনো সুযোগই দেননি ডেভিড মিলার। বরং বাংলাদেশের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান এ বাঁহাতি। মাত্র ৩৫ বলেই সেঞ্চুরি! তাতেই নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখন মিলারের দখলে। এর আগে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সবচেয়ে কম বলে (৪৫) সেঞ্চুরি ছিল তারই স্বদেশি রিচার্ড লেভির।

মিলারের বিশ্বরেকর্ড গড়ার দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৪ রান করে। জবাবে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। কোনো ব্যাটসম্যানই হিথু হতে পারেনি। যার খেসারত হিসেবে সফরকারীরা অল আউট হয় ১৪১ রানে। হার ৮৩ রানে। তাতেই টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হলো সাকিব আল হাসানের দল।

গতকাল সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৯.৫ ওভারের সময় ব্যাটিংয়ে নামেন মিলার। তখন স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭৮। এ সময় উইকেটের সংখ্যাটা হতে পারত ৪টি। কিন্তু রুবেল হোসেনের লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের বল মিলারের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেলেও ধরতে পারেননি মুশফিক। এর পর থেকেই জ্বলে ওঠেন প্রোটিয়া এ বাঁহাতি। রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি। মাত্র ২৩ বলেই ৫টি চার ও ৩ ছয়ে পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি। পরের ৫০ আসে মাত্র ১২ বলে। যেখানে ছিল ২ চার ও ৬টি ছক্কা। সব মিলিয়ে সেঞ্চুরি করতে মাত্র ৩৫ বল খেলেন মিলার। ৭টি চারের পাশে ইনিংসে ৯টি ছক্কা।

সাইফুদ্দিনের করা ১৯তম ওভারে মিলার একাই নিয়েছেন ৩১ রান। এর মধ্যে ছিল ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে অপরাজিত ছিলেন মিলার। (৩৬ বলে (১০১*)। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এটাই দ্রæততম সেঞ্চুরি।

১৭ ওভার শেষেও মিলারের রান ছিল মাত্র ৪৭ রান। শেষ দিকে তাসকিনের করা ১৮তম ওভার থেকে ১১ রান নেন তিনি। পরের ওভারে সাইফুদ্দিনের বলে এ বাঁহাতি নেন ৩১ রান। শেষ ওভারে রুবেলের প্রথম দুই বলে দুটি চার হাঁকান তিনি। ওই ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দুবার দুই রান নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিলার। তাতেই ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২২৪ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মিলারের ‘আসল ঝড়’টা বয়ে যায় সাইফুদ্দিনের ওপর দিয়েই। তার করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে টানা পাঁচটি ছক্কা হাঁকান মিলার। লং অন, কভার, স্কয়ার লেগ, লং লেগ এবং লেগ সাইড দিয়ে বল সীমানার ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান এ দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান। শেষ বলে মিলার এক রান নেওয়ায় হয়তো হাঁপ ছেড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাইফুদ্দিন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেছেন তাসকিন ও সাইফুদ্দিন। ৩ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন তাসকিন। সাইফুদ্দিন ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট।