সম্পাদকীয়

মিল্ক ভিটার জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নিন

দুগ্ধ ও দুগ্ধ পণ্যসামগ্রী উৎপাদন প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যেই গঠিত হয় বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদককারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড। এটিকে অনেকে না চিনলেও এর উৎপাদিত পণ্য ‘মিল্ক ভিটা’ বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতি পরিচিত নাম।
সংগঠনের সদস্যদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে সমিতিগুলো বা অন্যান্য উৎস বা প্রতিষ্ঠান থেকে তরল দুধ সংগ্রহ করে নিজস্ব কারখানাগুলোয় প্রক্রিয়াজাত-পূর্বক তা সরবরাহ ও বিক্রি করা এর প্রধান কাজ। আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো, দেশে স্থাপিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো দুগ্ধ বা দুগ্ধজাত সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণের কারখানা আর্থিক দিক দিয়ে সুবিধাজনক হলে, প্রয়োজনে সেটির দায়িত্বভার গ্রহণ করা।
দেশের তরল দুধের বাজার সৃষ্টিতে মিল্ক ভিটার অবদান অনস্বীকার্য। এটির পথ ধরে বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং সেগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। সে হিসেবে মিল্ক ভিটা অনেক পিছিয়ে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মিল্ক ভিটার চার হাজার একর জমি বেহাত’ শীর্ষক প্রতিবেদন যেন সেটিরই দৃষ্টান্ত। এতে বলা হয়, মিল্ক ভিটাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বরাদ্দ দেওয়া পাঁচ হাজার একর গো-চারণ ভূমির চার হাজার একরই বেহাত হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়েও জমি উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির কোনো তৎপরতা না থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মিল্ক ভিটার দুরবস্থা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গত বছর ১৪ দফা সুপারিশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑমিল্ক ভিটা রক্ষায় জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন, গুঁড়ো দুধ আমদানির ওপর সর্বোচ্চ করারোপ, প্রান্তিক-ভূমিহীন ও দরিদ্র খামারিসহ দুগ্ধ শিল্পে জড়িত নারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা, বেদখল হওয়া গো-চারণ ভূমি উদ্ধার প্রভৃতি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে মিল্ক ভিটা এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
মিল্ক ভিটার অনেকগুলো লক্ষ্যের মধ্যে ছিল ‘দেশে স্থাপিত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কোনো দুগ্ধ বা দুগ্ধজাত সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণের কারখানা আর্থিক দিক দিয়ে সুবিধাজনক হলে, প্রয়োজনে সেটির দায়িত্বভার গ্রহণ করা।’ এখন মিল্ক ভিটা এখন এমন পর্যায়ে এটি অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কী দায়িত্ব নেবে, নিজেকেই টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ৮০ শতাংশ জমি বেহাত, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির সেটি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই, খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা নেই; এটি দুঃখজনক। রাষ্ট্রীয় সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..