প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মিষ্টি নিয়ে সাখাওয়াতের বাসায় আইভী

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর সূচনায় তিনি সবার আগে মিষ্টি নিয়ে গেছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাখাওয়াত হোসেন খানের বাসায়। বৃহস্পতিবার রাতে ভোটের ফল প্রকাশের পর গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইভী শহরের খানপুর এলাকায় সাখাওয়াতের বাসায় যান। দুই নেতাই এ সময় নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আইভী বলেন, আমি এসেছি সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য। আমি কথা দিয়েছিলাম, হারি বা জিতি, আমি আসবো। আমি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এসেছি। ভোটের মাঠে পরাজিত হলেও নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে মেয়রকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন সাখাওয়াত হোসেন, যিনি সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের জন্য আপনি কাজ করবেন। প্রয়োজনে যে সহযোগিতা লাগে আমি তা দেবো।

সাখাওয়াত বলেন, মাদকের শহর, সন্ত্রাসের শহর এই দুর্নাম থেকে যাতে নারায়ণগঞ্জ রক্ষা পায়, সেটা আপনার কাছ থেকে আশা করবো। জবাবে আইভী বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি নিজে আগে থেকেই সোচ্চার। তার সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আশা করি এবার আপনাকেও সাথে পাবো, আপনিও সোচ্চার থাকবেন। মিলেমিশে কাজ করবো, নারায়ণগঞ্জের জন্য কাজ করবো।

আইভীর বাবা প্রয়াত আলী আহমেদ চুনকা স্বাধীনতার পর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসক হিসেবে পেশাজীবন শুরুর পরপরই ১৯৯৪ সালে আইভী উচ্চশিক্ষার জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে যান। সেখান থেকে ২০০২ সালে ফিরে পরের বছর বিপুল ভোটে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী চেয়ারম্যান হন। পৌরসভা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১১ সালে দলের নেতাদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আইভী ভোটে দাঁড়ান এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট শামীম ওসমানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির সাখাওয়াত, তবে তাতে ফল বদলায়নি। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। আর সাখাওয়াতের ধানের শীষ পেয়েছে ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।

বৃহস্পতিবার রাতে ভোটের ফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেছিলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ভোটগণনায় ত্রুটি হয়েছে। অন্যদিকে আইভী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, যারা আমার বিজয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের নিয়ে পথ চলতে চাই। একইসঙ্গে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চাই। এরপর শুক্রবার সকালেই প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় হাজির হন গত ১৩ বছর ধরে পৌর চেয়ারম্যান ও সিটি মেয়র হিসেবে নগরসেবার দায়িত্ব পালন করে আসা আইভী।

সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একই শহরের বাসিন্দা হিসেবে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় না। যেহেতু একই শহরে থাকি, অবশ্যই ওনার সহযোগিতা আমার লাগবে। ওনার ইশতেহার থেকে প্রস্তাবগুলো নেবো, ওনার সহযোগিতা নেবো। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করবো। নারায়ণগঞ্জবাসীকে জয় উৎসর্গ করেছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইভী বলেন, পরপর তৃতীয়বারের মতো জয়ী হতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে বিজয়ের মাসে এই জয় তার কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীকে জয় উৎসর্গ করলাম। বিজয়ের মাসে অর্জিত এই জয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, সব মুক্তিযোদ্ধাকে উৎসর্গ করলাম। পরপর চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের হারার পর এই জয় কোনো বিশেষ অর্থ বহন করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি নৌকা প্রতীক আমার হাতে তুলে দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমি বিজয়ের নৌকা নেত্রীকে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এটাই বড় সন্তুষ্টি।

প্রথমেই কী করবেন এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, অসমাপ্ত কাজগুলো সারতে হবে। আমাদের নদীর ওপর একটা সেতু করা প্রয়োজন। এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। এছাড়া ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। ডাম্পিং স্টেশন করা খুব দরকার। সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডের একটি পিছিয়ে আছে। জাইকার সঙ্গে কথা হয়েছিল। হলি আর্টিজানে হামলার কারণে ওরা একটু ভেঙে পড়েছে। যেভাবেই হোক এ জায়গাটায় নজর দিতে চাই। বন্দরের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আশা করি আপনাদের চোখে পড়েছে।

নির্বাচনের আগে ও প্রচার চলার সময় তৃতীয় পক্ষের কারণে উদ্বেগের কথা বলেছিলেন, নির্বাচনের পর কী মনে হচ্ছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে অনেকে আমার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করি। শেখ হাসিনাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসি। আমি জিতবো সেটা আমি জানতাম। কারণ, আমি মিথ্যা বলি না। আমি যে মানুষকে ভালোবাসি এটা তারা জানে। এটাই আমার শক্তি। নারীদের জন্য তিনি পৃথক মার্কেট করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ মার্কেটে নারীরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্য নিজেরা বিক্রির সুযোগ পান, সে চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।