প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হোক তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের

বাংলাদেশ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিচ্ছেদ্য নাম। বাংলাদেশ ও শেখ মুজিব নাম এখন সমার্থক। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি লড়েছিলেন বাংলার শোষিত, বঞ্চিত, মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য। বাংলার এই মহানায়কের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। আগামী ১৭ মার্চ পূর্তি হবে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বছরটিকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদ্যাপন করা হচ্ছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করাই আমাদের কাম্য।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অতর্কিত হামলার পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধুকে আটক করে হানাদার বাহিনী। এর আগেই তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তান। কারাগারে নানা প্রলোভন-প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি, হুমকিতে মাথা নত করেননি। স্কুলজীবনেই শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে প্রতিবাদী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ১৯৩৯ সালে, ১৯ বছর বয়সে।

বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ ছয় দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন ১৯৬৬ সালে। বারবার তাঁকে কারাগারে অন্তরীণ করা হয়,

জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বক্তৃতায় বলেনÑ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মূলত সে সময়ই দেশের মানুষ সর্বস্ব পণ করে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয় এবং ২৬ মার্চে ঘোষণার পর প্রত্যক্ষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দৃশ্যপটে অনুপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুর নামেই যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। মুক্তিকামী জনতা প্রতি মুহূর্তে তাঁর অস্তিত্ব উপলব্ধি করেছে নিবিড়ভাবে।

করাচির কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন বিকালে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে বঙ্গবন্ধু নামার পর পূর্ণতা পেয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক স্থানে সেই সময়টিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকারের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হয় গতকাল।

স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের কাছে আমার রক্তঋণ। তোমরা রক্ত দিয়ে আমাকে মুক্ত করে এনেছিলে। সেই রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করব।’ কথা রেখেছেন তিনি।

বাংলার মানুষ কেবল বঙ্গবন্ধুকেই মুক্ত করেনি, দেশকেও মুক্ত করেছে। এখন প্রজন্মের উচিত দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের মতোই ঝাঁপিয়ে পড়া। স্বাধীন বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই বঙ্গবন্ধুর মূল লক্ষ্য। আনুষ্ঠানিকতা, স্মরণ ও স্মৃতি তর্পণের পাশাপাশি আমাদের উচিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করা। তবেই সোনার বাংলা গড়ে উঠবে বাংলাদেশ।