Print Date & Time : 3 June 2020 Wednesday 9:36 pm

মুজিববর্ষে অঙ্গীকার হোক নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ

প্রকাশ: মার্চ ১৯, ২০২০ সময়- ১২:০৪ এএম

বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ছিল গত মঙ্গলবার। বছরব্যাপী দেশ-বিদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছে সরকার। মুজিববর্ষে জাতির পিতাকে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করবে জাতি।

মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি ফিরে এসেছিলেন তাঁর প্রিয় স্বাধীন স্বদেশে। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনই বাংলাদেশ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল। তাই গত ১০ জানুয়ারি শুরু করা হয়েছিল মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা। আর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মুক্তির মহানায়ক’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শুরু হয় মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা। আগামী এক বছর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বর্ষ উদ্যাপিত হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শাসকগোষ্ঠীর বৈরী ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। মুজিববর্ষজুড়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কেবল শ্রদ্ধাভরে স্মরণই করলেই হবে না, তাঁর প্রেরণায় জাতি গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। সেটিই হবে তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের সর্বোত্তম পন্থা। বর্তমানে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলেও তা সাধারণ মানুষের কতটা কল্যাণে আসছে, সেটি আলোচনাসাপেক্ষ। দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি থাকায় উন্নয়ন-অগ্রগতির সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। মুজিববর্ষে আমাদের আয়োজন ও আন্তরিকতায় ঘাটিতি নেই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে; যেমন: ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার।’, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকারÑসুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’ প্রভৃতি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঘটনার ক্রমানুসারে ১২ মাসের ১২টি নতুন নাম দিয়ে ‘মুজিববর্ষ-১০০’ নামে বর্ষপঞ্জি তৈরি করেছে। নতুন বর্ষপঞ্জিতে ১২ মাসের নাম দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে স্বাধীনতা, শপথ, বেতারযুদ্ধ, যুদ্ধ, শোক, কৌশলযুদ্ধ, আকাশযুদ্ধ, জেলহত্যা, বিজয়, ফিরে আসা, নবযাত্রা  ও ভাষা।

মুজিববর্ষের নামে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ কিংবা বর্ষপঞ্জি তৈরি তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন দেশবাসী এর সুফল পাবে। যখন জাতি মুজিববর্ষ পালনের প্রতীক্ষা করছে, তখন কুড়িগ্রামে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা মধ্যরাতে বেআইনিভাবে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বেদম প্রহার করে। নরসিংদীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এহেন অপকর্ম শুধু মুজিববর্ষ নয়, সব সময়ের জন্যই পরিত্যাজ্য। জনবিরোধী কাজে জড়িত সরকারি কর্মচারী কিংবা দুষ্কৃতকারীরা প্রশ্রয় পেলে জাতির পিতার বিদেহী আত্মা কষ্ট পাবে। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর বাংলার দুখী মানুষ যাতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা থেকে নির্ভয়ে-নির্বিঘেœ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ঘুষ ছাড়া সেবা পায়, সেই নিশ্চয়তা বিধান জরুরি বলে মনে করি।