দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মুনাফাসহ ভারতের ভ্যাকসিনের দাম নির্ধারণ স্বাভাবিক

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে উৎপাদিত কোনো ভ্যাকসিন তাদের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি দামেই বিক্রি হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, ভারত যদি তাদের দেশে উৎপাদিত কোনো ভ্যাকসিন বাংলাদেশে বিক্রি করে, তাহলে ওই ভ্যাকসিনের উৎপাদন খরচের সঙ্গে মুনাফা যোগ করেই দাম নির্ধারণ করবে। সুতরাং তাদের দেশে যে দামে এটি পাওয়া যাবে, বাংলাদেশে তার চেয়ে দাম বেশি হওয়াই স্বাভাবিক।

সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মত দেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানান, ভারতের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছে বাংলাদেশ। এতে বাজেটে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, আমি জানি নাÑএ দাম আপনারা কোথায় পেয়েছেন। তবে ভারত যদি নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করে, তাহলে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কম হবে। কিন্তু তারা যখন বিক্রি করবে তখন নিশ্চিতভাবেই উৎপাদন খরচ ও মুনাফা যুক্ত করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করবে। ফলে তাদের যে উৎপাদন খরচ হবে, সেই মূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না বলে মনে করি। তবে আমরা দেখব যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভ্যাকসিনের দাম কত এবং আমরা কত দামে পাচ্ছি, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করব। কারণ ভ্যাকসিন অনেক দেশ তৈরি করবে। এক দেশ থেকে যদি বেশি দাম বলে আমরা অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করব, সেই সুযোগ আমাদের আছে।

আগামী বাজেটে ভ্যাকসিন কতটা গুরুত্ব পাবে এবং জনস্বাস্থ্যের কোন বিষয়কে বাজেটে গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এ মুহূর্তে জাতির জন্য চাহিদা সেটা হচ্ছে সবাই অপেক্ষা করে আছে, আমরা কবে ভ্যাকসিনের কাজটা শুরু করব এবং কবে ভ্যাকসিন সবাইকে দেয়া শেষ করতে পারব। ভ্যাকসিন আনা কঠিন কাজ নয়। ভ্যাকসিন দেয়াটা কঠিন। সব মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা খুব জটিল কাজ। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা এখানে সফল হবো। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন যে, দেশের সব মানুষ এমনকি যারা খরচ বহন করতে অপারগ, তাদের ভ্যাকসিনের খরচও তিনি দেবেন। আপনারা জানেন এটা এক দিনে হবে না। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে এক দিনে এটি দেয়া যাবে না। সে জন্য অবশ্যই কিছু ধাপ থাকবে। প্রথম ধাপে কারা পাবে, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবে, তৃতীয় ধাপে কারা পাবে এভাবে চিহ্নিত করে আপাতত আমরা ভ্যাকসিন দেব। আমরা প্রত্যাশা করি, দেশের ১৭ কোটি মানুষকে আমরা ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে পারব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..