প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মুনাফায় ফিরেছে সোনালী আঁশ

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: সম্প্রতি মুনাফায় ফিরেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের কোম্পানি সোনালী আঁশ। বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)। ফলে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট নন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। তারা চান এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হোক। কারণ প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে মাত্র দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা। এদিকে মুনাফায় ফিরলেও কোম্পানির বিরুদ্ধে মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটির ২০১৫-১৬ সালে মুনাফার পাশাপাশি বেড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়ও। ২০১৫-১৬ এ প্রতিষ্ঠানের অর্থবছরে কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৪৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। আগের বছর লোকসান ছিল ১৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে এক টাকা ৫৯ পয়সা। গত বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৬০ পয়সা।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বিশ্বব্যাপী দিন দিন বাড়ছে। তবে পাটের তৈরি জুতা রফতানি আদেশের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এটা বাড়াতে পারলে আমাদের কোম্পানির অবস্থান আরও ভালো হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় বিনিয়োগকারীদের বোনাস শেয়ারের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোনাস শেয়ার ইস্যু না করার কারণে শেয়ারটির দর ২০০ টাকায় রয়েছে। আর বোনাস শেয়ার দেওয়া হলে দর অনেক কমে যেতো। এছাড়া বোনাস শেয়ার ইস্যু করলে কাগজে-কলমে শেয়ার সংখ্যা বাড়লেও ফিজিক্যালি বাড়বে না।’

বর্তমানে শেয়ারদর বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আগের চেয়ে ব্যবসায় ভালো করছে সে কারণে শেয়ারপ্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সৃস্টি হতে পারে। কারণ শেয়ারের দর বাড়া-কমা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের চাহিদার ওপর।’

এদিকে মুনাফায় ফিরলেও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অডিটর আপত্তি দিয়েছে তালিকাভুক্ত সোনালী আঁশ কর্তৃপক্ষ মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে আসছে। পুনর্মূল্যায়ন বাড়ায় স্থায়ী সম্পদের ওপর অবচয় চার্জ না করে কোম্পানি এ মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখিয়ে আসছে। ফলে এটাকে নিরীক্ষক কোয়ালিফাইড অপিনিয়ন (আপত্তিকর মন্তব্য) করেছে। বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস)-১৬ অনুযায়ী, স্থায়ী সম্পদদের ওপর অবচয় চার্জ করতে হয়। ফলে মুনাফা ও সম্পদ কমে আসে। কিন্তু সোনালী আঁশে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পুনর্মূল্যায়নে স্থায়ী সম্পদ বাড়লে তার ওপর অবচয় চার্জ করা হচ্ছে না। যাতে ওই সময় থেকেই মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানো হচ্ছে।

এর পাশাপাশি  কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ২০০৬ সালের শ্রম আইন মানছে না বলে নিরীক্ষক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। কোম্পানিটিতে  ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময় ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হয়নি।

এদিকে কোম্পানিটিতে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকার অস্পর্শনীয় সম্পদ ও অনুপার্জিত মুনাফা বেড়েছে বলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আর্থিক হিসাবের নোট-৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোম্পানির পুঞ্জীভূত মুনাফা বেশি করে দেখানো হয়েছে বলে নিরীক্ষক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

কোম্পানিটি ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা ও অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২৭ লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৬১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিকের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। গত ৫ বছরে প্রতিবারই প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বশেষ ২০১০ সালে বোনাস শেয়ার প্রদান করা হয়।

এদিকে গতকাল এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সর্বশেষ ১৯৫ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়।  আর দর ওঠানামা করে  ১৯২ থেকে ১৯৯ টাকার মধ্যে। দিনজুড়ে ৩৪৩ হাওলার মধ্যে দিয়ে ৫১ হাজার ৭৬২টি শেয়ার লেনদেন হয়। গত এক বছরের মধ্যে এ শেয়ার সর্বোচ্চ ২১৯ টাকায় লেনদেন হয়। একই সময়ের মধ্যে শেয়ারটি সর্বনি¤œ ১১২ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়।