প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

মুনাফায় শীর্ষ ১০-এর ৬টিই বহুজাতিক কোম্পানি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। সে কারণে তালিকভুক্ত অন্যসব কোম্পানির চেয়ে এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদাও বেশি। সম্প্রতি ডিএসই থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুনাফায় (ইপিএসের ভিত্তিতে) এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানই বহুজাতিক।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, এসব কোম্পানিতে ঝুঁকি কম; পাশাপাশি আর্থিক অবস্থা ভালো থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি থাকে। তাছাড়া বেশিরভাগ কোম্পানিই শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশানুযায়ী লভ্যাংশ প্রদান করে; সে কারণে এসব শেয়ারের চাহিদাও বেশি।
তথ্যমতে, গত হিসাববছরে মুনাফায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে বাটা শু। এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৭২ টাকা ৭৯ পয়সা। তবে চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা অনেক কমে গেছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ টাকা ৪২ পয়সা।
মুনাফায় পরের অবস্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার। এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা ২০ পয়সা। ৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা ইপিএস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে লিন্ডে বিডি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস ৫৫ টাকা ৬২ পয়সা। তালিকায় ৫২ টাকা ১৫ পয়সা ইপিএস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। অন্য প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টসের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫৫ পয়সা।
এদিকে মুনাফায় এগিয়ে থাকা শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে দেশিও চার কোম্পানি। এগুলো হচ্ছে রেনাটা, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, পদ্মা অয়েল এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রেনাটার ইপিএস ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সা, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের ৩৬ টাকা ২৩ পয়সা, পদ্মা অয়েলের ৩৪ টাকা ১৮ পয়সা এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা শূন্য তিন পয়সা।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বহুজাতিক কোম্পানি আর্থিক ভালো থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। সে কারণে পুঁজিবাজারে এমন ধরনের আরও কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়া জরুরি। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। যারা আমাদের দেশে ব্যবসা করছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সরকারসহ সবার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের জোগান দিতে এসব কোম্পানির বিকল্প নেই।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হয় গ্রামীণফোন।
এরপর আর কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে দেখা যায়নি। বিষয়টি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো দিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বছরের পর বছর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে না আসায় এসব কোম্পানির মুনাফার কোনো সুফল পাচ্ছেন না দেশবাসী।
উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা হচ্ছে ৩৫৫টি। এর মধ্যে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১১টি। এগুলো হচ্ছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, ম্যারিকো বাংলাদেশ, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ
সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বাটা শু।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি জরুরি। কিন্তু বিভিন্ন কৌশলে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে দূরে সরে রয়েছে। এ অবস্থায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে এখন দ্বিমত নেই বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন), ডিএসই (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ) ও সিএসইর (চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ)।
এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এসব কোম্পানির প্রতি সরকারের কঠিন হওয়া উচিত। তাদের ওপর করের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিলে তারা পুঁজিবাজারে আসবে। কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে তারা কিছুতেই পুঁজিবাজারমুখী হবেন না।’

সর্বশেষ..