দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মুনাফা তুলতে দ্রুত শেয়ার হাতবদলের প্রবণতা

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাস দুয়েক ধরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। মাঝে মাঝে শেয়ারদর সংশোধন হচ্ছে শুধু। কিন্তু ২০১০ সালের ধসের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। সেই শঙ্কা আবার দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এজন্য বিনিয়োগকৃত শেয়ারে মুনাফা দেখলেই বিক্রি করে দিচ্ছেন।

দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। অবশ্য এ ধরনের শেয়ার লেনদেন প্রকণতা বেশি দেখা গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মাঝে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে টেলিকম খাতে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছেন বিনিয়োগকারীরা। খাতটিতে সর্বোচ্চ সাত দশমিক ১৬ শতাংশ সর্বোচ্চ মুনাফা করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের সপ্তাহের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। কিন্তু শেয়ার লেনদেন হয়েছে পূর্ববর্তী সপ্তাহের চেয়ে ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। ডিএসইর প্রধান সূচক বৃদ্ধি পায় ৮৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। একইসঙ্গে বৃদ্ধি পায় ডিএসইএক্স।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাকালেও কিছু কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন কৌশলী বিনিয়োগকারীরা। মৌলভিত্তির এসব কোম্পানির শেয়ারদর এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। করোনা মহামারির আঁচ পুঁজিবাজারে কমাতে ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এমন সিদ্ধান্তে আস্থাও বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। সেই ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। সুযোগটি অনেকেই লুফে নিয়েছেন। এতে নতুন বিনিয়োগ এসেছে পুঁজিবাজারে। নতুন আসা বিনিয়োগের সিংহভাগই গিয়েছে মৌলভিত্তির কোম্পানিতে। এজন্য ডিএসইর গুরুত্বপূর্ণ সূচক ডিএস৩০-এর বাজার মূলধন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত সপ্তাহেও ডিএসইর বাজার মূলধন বৃদ্ধি পায় ছয় হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।

এসব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারের শেয়ারদর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত বর্তমান চিত্র মিলিয়ে চলছেন বিনিয়োগকারীরা। এজন্য বিনিয়োগ নিরাপদ করতে এক কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ আটকে রাখছেন না, ক্রয় দরের চেয়ে শেয়ারমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি হলেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমন প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

খাতভিত্তিক লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ অবদান রাখে ওষুধ খাত ২০ শতাংশ। এছাড়া প্রকৌশল খাত ১২ শতাংশ, ব্যাংক, টেক্সটাইল ও এনবিএফআই খাত ৯ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ছয় শতাংশ, সাধারণ বিমা খাত ছয় শতাংশ, জীবন বিমা খাত এক শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড দুই শতাংশ, টেলিকম খাত দুই শতাংশ ও আইটি খাত চার শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের লেনদেন চিত্র ও কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে এমন চিত্র। ডিএসইতে গত সপ্তাহে আগের চেয়ে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কিন্তু সংখ্যায় বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৬২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ২১৭টির, কমে ১১৯টির, অপরবর্তিত ছিল ২৪টির ও লেনদেন হয়নি দুটির।

একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো ও ব্র্যাক ব্যাংক। একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ৪৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এছাড়া শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ফাইন ফুডস, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও জিপিএইচ ইস্পাত।

অপরদিকে একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদর হারানোর শীর্ষে উঠে আসে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, ঝিল বাংলা সুগার মিলস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, জুট স্পিনার্স, এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সমতা লেদার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..