বিশ্ব বাণিজ্য

মুনাফা হ্রাসে আমাজনের শেয়ারে ধস

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের বিক্রি বৃদ্ধি পেলেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ মুনাফা কমেছে। পণ্য বিতরণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। মুনাফা হ্রাসের খবরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমে যায়, এতে আমাজনের প্রধান জেফ বেজোস শীর্ষ ধনীর তকমা হারান। খবর: বিবিসি।

প্রতিবেদনমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এ সময়ে পণ্য বিতরণ খরচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া অন্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৫ শতাংশ কম।

এদিকে এ খবরে আমাজনের শেয়ারে দরপতন হয়েছে। শেয়ারে বড়সড় দরপতনের ঘটনায় শীর্ষ ধনীর তালিকায় এক নম্বর থেকে ছিটকে পড়েছেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। তাকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষ ধনী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

শেয়ারবাজারে আমাজনের শেয়ারমূল্য প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অ্যামাজনের শেয়ারে সাত শতাংশ পতন ঘটায় বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ১০৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ ১০৫ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। টানা ২৪ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন বিল গেটস। কিন্তু ২০১৮ সালে জেফ বেজোস বিল গেটসকে পেছনে ফেলে শীর্ষ ধনী হন। তিনিই বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে ১৬০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছিলেন।

১৯৮৭ সালে প্রথমবার ফোর্বসের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় জায়গা পায় বিল গেটসের নাম। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল এক দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে আমেরিকার ৪০০ ধনীর মধ্যে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেন জেফ বেজোস। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার।

মূলত বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স খাতে শীর্ষে অবস্থান করছে আমাজন। ই-কমার্সকে আরও জনপ্রিয় ও গ্রাহকবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরজুড়েই হু-হু করে বেড়েছে আমাজনের শেয়ার। এক বছরেই দাম বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। আমাজন এবং মাইক্রোসফটের মূল ব্যবসার ধরন আলাদা হলেও ইদানীং একে অপরের প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে উভয় প্রতিষ্ঠান। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দারুণ সেবা দিচ্ছে উভয় প্রতিষ্ঠান। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে

উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

সর্বশেষ..