সারা বাংলা

মুন্সীগঞ্জে আলুর দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষি

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এবার মার্চের প্রথম সপ্তাহে আলু উত্তোলন শুরু করেছেন কৃষক। আলু তোলার পর বস্তাবন্দি করা থেকে শুরু করে কোল্ডস্টোরেজ কিংবা বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে গত চার বছর লোকসানের কবলে পড়া কৃষক এবারও আলুর ন্যায্য দাম পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার মুন্সীগঞ্জে ৩৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। ভালো ফলন হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদরসহ জেলার ছয়টি উপজেলায় আলু তোলার মহোৎসব শুরু হয়েছে। কৃষকের সঙ্গে আলু তোলার কাজে কৃষানি ও শিশুরাও নেমে পড়েছে মাঠে। তবে গত চার বছরে আলুর ফলন ভালো হলেও বস্তাপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা লোকসান হওয়ায় এবার লাভের মুখ দেখবেন কি না, দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, জেলায় ৬০-৬৫ হাজার টন আলু বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। জেলার ৭৪টি হিমাগারে ধারণক্ষমতা পাঁচ লাখ টন। বাকি আলু বিভিন্নভাবে সংরক্ষণসহ কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সরেজমিন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষককুল আলু তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সদরের চরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে দিগন্ত জোড়া মাঠের পর মাঠজুড়ে যেন গোল আলুর সমারোহ। চারপাশে যেদিকে দৃষ্টি পড়ে সর্বত্র শুধুই আলু আর আলু। কৃষক মাঠের মাটি খুঁড়ে তুলে আনছে একেকটি আলু। আবার উত্তোলন শেষে মাঠেই আলুর স্তূপ করে রাখছেন। পরে এ আলু বস্তাবন্দি করে বিক্রির জন্য বাজারজাত করা হবে। আবার কেউ কেউ এখনই বস্তাবন্দি করে আলু সংরক্ষণের জন্য কোল্ডস্টোরেজে নিয়ে যাবেন।
জেলা সদরের রামশিং গ্রামের চাষি মজিবুর রহমান জানান, আলু তোলার শুরুতেই দাম ভালো না মন্দ বোঝা যাচ্ছে না। টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারন গ্রামের আলুচাষি আলম শেখ জানান, এবার আলুতে তারা লোকসান নয়, লাভবানই হবেন।
সদর উপজেলার চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নের তাঁতীকান্দি গ্রামের আলু ব্যবসায়ী আক্তার মাহমুদ জানান, সবে আলু তোলা শুরু হয়েছে। পুরো মার্চ মাসজুড়েই এ আলু তোলার মহোৎসবে মেতে থাকবেন কৃষক।
কৃষিশ্রমিকরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন আমাদের মজুরি দেওয়া হয় ২০০-৩০০ টাকা। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..