পত্রিকা

মুলাদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবককে হত্যার চেষ্টা

প্রতিনিধি, বরিশাল: জমিজমা বিরোধের জেরে পরিকল্পতিভাবে যুবককে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একই এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী। গত ১৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের প্যাদারহাট বাজারের পশ্চিমপাড় কাঁশফুল হোটেলের সামনে মুলাদী টু মীরগঞ্জ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মো. ইমরান খানকে (২৬) উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মুলাদী থানায় সাত জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন আহত ইমরান খানের পিতা মো. সিরাজ খান। ইমরান রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা মৃত রহম আলীর ছেলে মো. এসাহাক হাওলাদার (২৫), মিজানুর রহমান (২৮), নজরুল ইসলাম (২২), মাজেদ আলী হাওলাদার, কবির হোসেন (২৬), এনায়েত হক (২৩), নুরুল হক (২৮), আরাফাত হোসেনসহ (২৪) আরও চার থেকে পাঁচজন। তারা সবাই কাজিরচরের বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বাদী সিরাজ খান বলেন, ‘উল্লিখিত বিবাদীরা আমার ভাতিজা ইউনুস খানের শ্যালক ও আত্মীয়স্বজন। আমার ভাতিজার সঙ্গে বসতবাড়ির জমিজমা ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। চলতি মাসের গত ১২ জুলাই আমাদের বাড়ির সীমানার দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ইউনুসের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এতে আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় ইউনুস।’

তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ইমরান খান (৫নং সাক্ষী) মোদাচ্ছের সিকারের ফার্মেসি থেকে বাড়ির উদ্দেশে রত্তনা হলে প্যাদারহাট বাজারের পশ্চিমপাড় কাঁশফুল হোটেলের সামনে মুলাদী টু মীরগঞ্জগামী রাস্তায় পৌঁছলে উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা একটি মাহিন্দাযোগে এসে তাদের সঙ্গে থাকা দা, লোহার রড, লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলে ইমরানের পথরোধ করে মারধর করে।

তিনি জানান, বিবাদী এসাহাক হাওলাদার তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ইমরানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করেন। অপরদিকে মিজানুর রহমান তার হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইমরানকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেহের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে ইমরান সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে ইমরান মৃত্যুর সঙ্গে হাসপাতালে লড়ছেন। তার পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হত্যা চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বেশ কয়েকবার আমার ছেলের ওপর তারা হামলাও চালিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..