সম্পাদকীয়

মুড়ির বাজার

 

রমজানে দেশজুড়ে মুড়ির চাহিদা বাড়ে কয়েক গুণ। ইফতারে ছোলা-মুড়ির সঙ্গে ভাজাপোড়া খাবার মিশিয়ে খাওয়ার একধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে অনেক দিন ধরে। তাই এ সময়টায় মুড়ি উৎপাদকদের ব্যস্ততাও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। গতকাল শেয়ার বিজে পাবনা জেলার ‘মুড়িগ্রাম’ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাহমুদপুর গ্রামটি স্থানীয়ভাবে মুড়িগ্রাম নামে পরিচিত; কেননা সেখানে কয়েক যুগ ধরে বংশপরম্পরায় অনেক লোকের প্রধান পেশা মুড়ি তৈরি ও বিপণন। এ গ্রামের হাতেভাজা মুড়ির সুনাম রয়েছে দেশের অন্য অঞ্চলেও। শহরে বসবাসরত অনেকেই রোজার আগে গ্রাম থেকে হাতেভাজা মুড়ি এনে পূরণ করেন রমজান মাসের চাহিদা। মেশিনে তৈরি মুড়ির ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে ইউরিয়া মেশানোর। ইউরিয়া দিয়ে মুড়ি ভাজলে তা দেখতে অতিরিক্ত সাদা, মচমচে ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যা সাধারণ ক্রেতা কিনতে আগ্রহী হয়। তবে এ তথ্য একসময় পত্রপত্রিকায় প্রচার পাওয়ায় মানুষ সচেতন হয়েছিল। বর্তমানে গণমাধ্যমে এ নিয়ে তেমন খবর দেখা যায় না। ভেজাল মুড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্যও নেই আগের মতো। তবে কি মুড়িতে ইউরিয়া ও হাইড্রোজের মতো ক্ষতিকর উপাদান মেশানো বন্ধ হয়েছে?
ইফতারে খাবার হিসেবে মুড়ি ভালো; অন্য সব ভাজাপোড়া আইটেমের তুলনায় তো বটেই। এ থেকে প্রয়োজনীয় শর্করার চাহিদাও পূরণ হয়। তবে খুব বেশি তেল আর ভাজাপোড়া খাবার মিশিয়ে এটি খাওয়া ঠিক নয়। বরং শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও লেবুর রস মিশিয়ে মুড়ি খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। এখন অবশ্য রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সারা বছরই ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপÑএসব পাওয়া যায়। আর ভ্রাম্যমাণ ঝালমুড়ি বিক্রেতারা তো রয়েছেনই। ফলে মুড়ির চাহিদা বছরজুড়ে এখন কম নয়। মেশিনে ভাজা মুড়ির ব্যাপারে জনসাধারণের বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়ার পর এ বাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানও প্রবেশ করেছে। দেশের বড় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্যাকেটজাত মুড়ি এনেছে বাজারে। সেটির ব্যাপারে রয়েছে ক্রেতাদের বিশেষ আকর্ষণ। তারা হয়তো মনে করেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মুড়িতে অন্তত ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হবে না। কিন্তু ক্রেতাকে শতভাগ আশ্বস্ত করতে বড় প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত মুড়িও সরকারিভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত যে, তাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে কি না।
রোজার মাস সামনে রেখে গ্রামে গ্রামে হাতেভাজা মুড়ি প্রস্তুতকারকদের ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি এ খাতে কিছু লোকের মৌসুমি কর্মসংস্থান হচ্ছে। তবে এবার ধান-চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মুড়ির দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। জনপ্রিয় এ খাবারটিতে এখন ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ জোগানো যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা উচিত। সেক্ষেত্রে মুড়িশিল্পের বিকাশও ঘটবে দ্রুত।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..