প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘মূলধন সংগ্রহে পুঁজিবাজারের চেয়ে বড় বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাহমুদা আক্তার বলেছেন, আমরা পুঁজিবাজারটাকে আরও বেশি সুসংগঠিত করতে কাজ করছি। এক্ষেত্রে সবারই ইতিবাচক ভূমিকা জরুরি। বাংলাদেশের অর্থনীতির যে প্রান্তে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে বলা যায়, মূলধন সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজারের চেয়ে বড় বিকল্প কোনো জায়গা নেই। তবে পুঁজিবাজার থেকে সঠিক পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা ও একে টেকসই করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের-আপনাদের সবার এই মর্কেটের জন্য সঠিক ভূমিকা রাখার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বিআইসিএম’র অবস্থানটা একটু ভিন্ন। কারণ সরকার এখানে বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষিত করতে অর্থায়ন করছে।

গতকাল পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সিএমজেএফ’র সভাপতি জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু আলী, বিআইসিএ পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুছ ছালেহীনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদ আক্তার বলেন, অনেক স্টেকহোল্ডারের মাধ্যমে মার্কেট গঠিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার হচ্ছেন বিনিয়োগকারী। মার্কেটের বড় পক্ষ দুটি। একটি পক্ষের টাকা সংগ্রহ করা দরকার, আরেকটি পক্ষের টাকা বিনিয়োগ করা দরকার। দু-পক্ষই বাজারের জন্য বিনিয়োগকারী। এই বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত করার কাজটাই আমরা করে থাকি। এই শিক্ষাটা যারা পুঁজিবাজারের ‘অ’, ‘আ’ জানে না তাদের যেমন দিই, তেমনটি যারা পিএইচডি করেছে তাদেরও দিয়ে থাকি। সব ধরনের বিনিয়োগকারীকে শিক্ষিত করতে যা করার দরকার তা আমরা করছি। তবে সরকার আমাদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করে দিলেও যতটুকু পাওয়া দরকার ততটুকু পাচ্ছি না। এর বড় কারণ সব ধরনের ও সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের আমরা যথযথভাবে কমিউনিকেট করতে পারছি না।

বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে সিএমজেএফ’র সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আমরা উভয় পক্ষই পুঁজিবাজারের জন্য কাজ করছি। তাই বিআইসিএম সবসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে রয়েছে। সামনের দিনগুলোয় কীভাবে এক সঙ্গে কাজ করা যায় সেই চিন্তা বিআইসিএম করছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, একটা সময় বাজারে লেনদেন হতো মাত্র এক কোটি টাকা। তখন এখানে সব পত্রিকার আলাদা কোনো প্রতিবেদক ছিলেন না। কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, দেশের অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাজার একটি বড় খাত। তাই এ খাতের সঠিক তথ্য যেন সঠিক সময় স্টেকহোল্ডারদের কাছে পৌঁছতে পারে সে জন্যই সিএমজেএফ গঠন করা হয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতির নীতিনির্ধারকরা এখনও ব্যাংক খাতের মতো পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই গুরুত্বটা পেতে হলে বড় ধরনের জাগরণ দরকার। প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে এই জাগরণ তৈরি হবে। আর এজন্য বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সবার আরও দক্ষ হতে হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে সিএমজেএফ।

বৈঠকে আবু আলী বিআইসিএম’র সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দেন। সেই সঙ্গে তিনি বাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও বিআইসিএম’র সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিএমজেএফ’র অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য রোকন উদ্দীন মাহমুদ, বাবুল বর্মনসহ আরও অনেকে।