মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ল। গত আগস্ট মাসের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত আগস্ট মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তি ধারায় এলো। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো। ভোক্তার প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আয় না বাড়লে তাকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হবে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।
এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেয়। এর কিছুটা সুফল মিলছে। এখন আবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া হতাশার। সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
বিকাশমান অথচ দুর্বল সুশাসনের অর্থনীতিগুলোয় মূল্যস্ফীতির কারণ পর্যালোচনায় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদর বা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা, দেশের ভেতর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি, সময়মতো বা সঠিক দামে আমদানির সমস্যা, যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়া, স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, দেশি বা বিদেশি মুদ্রার তারল্য সংকট প্রভৃতি। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় উন্নত বা উন্নয়নশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেশির ভাগ পদ্ধতি আমাদের দেশে নাও কাজে আসতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি এমনি এমনি কমবে না। পথ খুঁজতে হবে নীতিনির্ধারক মহলের।
আমাদের দেশে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর আগে নিত্যপণ্যের বাজারে এ মাত্রার ঊর্ধ্বমুখিতা এত দীর্ঘ সময় বিরাজ করতে দেখা যায়নি। পণ্যের ক্রমাগত দাম বাড়ায় কমছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও প্রকৃত আয়। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির বড় প্রভাবক আমিষ পণ্য, মসলা ও রান্নায় ব্যবহূত প্রয়োজনীয় পণ্য। পাশাপাশি চাল, গম ও সবজির দামে ঊর্ধ্বমুখিতারও ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে।
মূল্যস্ফীতিতে স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সেবা খাতে ব্যয় বাড়ার মতো বিষয়গুলোর অবদানও বেড়েছে।
অভ্যন্তরীণ পণ্যের মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে আগে। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে পার্থক্যের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের মজুত থেকে পণ্য বিক্রি করে বাজারদরকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।
প্রিন্ট করুন




Discussion about this post