প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মূল্যস্ফীতি পুনঃপর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া উচিত

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কাজেই আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম ওঠানামা করলে বা কোনো ধরনের বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার প্রভাব দেশের বাজারে অবশ্যম্ভাবীভাবেই পড়বে। কাজেই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি হলে দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়া খুবই স্বাভাবিক। গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজার নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারেও অধিকাংশ পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির যে হিসাব দিচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে নানা অঙ্গন থেকে সমালোচনা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির হিসাব পুনঃপর্যালোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা: সরকারের মূল্যস্ফীতি হিসাব অবাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত নয়’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের দেয়া মূল্যস্ফীতির হিসাব অবাস্তব ও বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার ভাষ্য মতে, সরকার ৬ দশমিক ২২ শতাংশের যে মূল্যস্ফীতির কথা বলছে, সেটা প্রকৃতপক্ষে ১২ শতাংশ হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

মূলত পণ্যমূল্যের সাম্প্রতিক গতিধারা বিশ্লেষণ করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। কারণ যেসব পণ্যের দামের ওপর ভিত্তি করে এ মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সেগুলোর দাম বেড়েছে হু হু করে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল ও পাম ওয়েলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশের ওপরে। আটা-ময়দার মতো পণ্যের দামও ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। কাজেই বিবিএস খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির যে হিসাব দিচ্ছে, সেটার প্রতি সাধারণের অনাস্থা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এখনও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। কাজেই মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। কাজেই বিবিএসের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি মানুষের অনাস্থাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। দেশের মানুষের জন্য যথোপযুক্ত পরিকল্পনা গ্রহণের সুবিধার্থে সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি ও প্রকাশ অপরিহার্য। অন্যথায় পরিকল্পনা গ্রহণেই গলদ সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়ন আবশ্যক। পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব অনুধাবন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।