সম্পাদকীয়

মূল্যস্ফীতি যেন নাগালের বাইরে না যায়

এবার পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্য ভোক্তাদের নাকাল করেছে। জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সদস্যরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আশাবাদের কথা শোনালেও সেটি আদৌ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পেঁয়াজের অতিমূল্য সরকারের সাফল্যকে ম্লান করবে না, এমন দাবি করা হলেও পেঁয়াজ সরকারকে বিব্রত করেছে বৈকি। এমনকি পেঁয়াজের কারণে নভেম্বরে যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন খোদ পরিকল্পনামন্ত্রী। ভবিষ্যতে অন্য কোনো ভোগ্যপণ্যের এমন অতিরিক্ত দর বৃদ্ধিতে যাতে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে সে বিষয়ে প্রস্তুত থাকা উচিত বলে মনে করি।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়াল মূল্যস্ফীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে তিনি বলেন, নভেম্বরে আগের মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ; গত মাসে যা বেড়ে হয়েছে ছয় দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ৫৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। শুধু তা-ই নয়, মন্ত্রী বলেছেন, এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। আর মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম এবং সবজির দাম কমলে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে। আমরা তাই করার চেষ্টা করছি।’

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পাশ কেটে গিয়ে বলেছেন, পেঁয়াজের মূল্য ১০০ টাকার নিচে নামবে না, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আছে। এমন সুস্পষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে পরিকল্পনামন্ত্রীর অকপট স্বীকারোক্তিকে সাধারণ মানুষের সাধুবাদ জানাবে বলেই ধারণা।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে পেঁয়াজের দাম ভূমিকা রেখেছে। এটি বিশেষ সতর্কবার্তা। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এটি সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারত না। টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও তা দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়নি। পুরো আমদানি, সরবরাহ চেইন এবং মজুতে নজরদারি করলে পেঁয়াজের দাম বাড়ত না, বাড়লেও তা দীর্ঘদিন থাকত না।

সরকারের উচিত কোনো নিত্যপণের দাম বাড়লে সেটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা বড় সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। দাম বেশি হলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আছে, এমন বক্তব্যে অসাধু ব্যবসায়ীরাই প্রশ্রয় পায়। টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য বিক্রি করলে গেলে মজুতকৃত পণ্য বাজারে ছাড়তে বাধ্য হবে অসাধু ব্যবসায়ীরা। মজুতবিরোধী অভিযানে শাস্তি হলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করতে পারে সরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..