প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই: তবুও বাড়ছে দুই কোম্পানির শেয়ারদর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। কোম্পানিগুলো হলো নাভানা সিএজি লিমিটেড ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এ কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তারা এমনটিই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

জানা যায়, নাভানা সিএনজি লিমিটেডের শেয়ারদর গত মাসের ১১ তারিখ থেকে ক্রমেই বেড়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ টাকায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২২ টাকা ১০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

এবং আর্গন ডেনিমস লিমিটেডের শেয়ারদর গত মাসের ২৯ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা গতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩১ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৭০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

উল্লেখ্য, প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি নাভানা সিএনজি লিমিটেড ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৫ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ১৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৪০ পয়সা।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই বছর ইপিএস হয়েছে তিন টাকা ৫৪ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৩০ টাকা ১৯ পয়সা, আগের বছরের একই সময় যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৪৬ পয়সা ও ২৮ টাকা ১৪ পয়সা। ওই সময় কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ২৪ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (সিআরএবি) লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদে ‘এএ৩’ হয়েছে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৩১ অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত ব্যাংকের  দেওয়া তথ্যের আলোকে এ রেটিং সম্পন্ন হয়েছে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৫ দশমিক এক শতাংশ।

১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ৭৮ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে তিন পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ১৮ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ এনএভি বেড়েছে ৭৮ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে পাঁচ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে দুই শতাংশ বা এক টাকা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৭৮ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৭৮ টাকা ৩০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৮০ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। ওইদিন কোম্পানির আট লাখ ৪৩ হাজার ১৪৯টি শেয়ার মোট ৯৩৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ছয় কোটি ৬২ লাখ এক হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৮১ টাকায় ওঠানামা করে।

কোম্পানিটির মোট ছয় কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৯২টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এবং আরগন ডেনিমস লিমিটেড কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ  ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে চার টাকা ৩৯ পয়সা এবং এনএভি হয়েছে ২৭ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময় ইপিএস হয়েছে চার টাকা ছয় পয়সা আর এনএভি হয়েছে ২৭ টাকা।