মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস রোধে কঠোর হোন

মূল্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারবাজারের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিনিয়োগকারীদের বাজারের হালনাগাদ তথ্যের মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও জানতে হয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে কেবল লোকসানই নয়, সর্বস্ব হারিয়ে বিনিয়োগকারীকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতেও হয়। 

সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হলোÑকোম্পানির আর্থিক অবস্থার প্রতিবেদন, লভ্যাংশের তথ্য, অধিকারমূলক বা রাইট শেয়ার, বোনাস শেয়ার বা অনুরূপ সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত, কোম্পানির স্থায়ী সম্পত্তি কেনাবেচার তথ্য, কোম্পানির আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ বা নতুন ইউনিট স্থাপন-সংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগে জানা গেলে সেটিকে ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কোম্পানির ইতিবাচক তথ্য বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যেগুলো অনেক সময় সত্য হয় না। এভাবে আমাদের পুঁজিবাজারে নানা কারসাজির ঘটনা ঘটছে।

কারসাজি ঠেকাতে তালিকাভুক্ত প্রতিটি সিকিউরিটি ইস্যুকারী যে কোনো ধরনের ‘মূল্য সংবেদনশীল’ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ৩০ মিনিটের মধ্যে কিংবা তথ্যটি গোচরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জকে ফ্যাক্স, বিশেষ বার্তাবাহক মাধ্যমে পাঠাতে হবে। সেইসঙ্গে তথ্য দুটি বহুল প্রচারিত পত্রিকার (বাংলা ও ইংরেজি) পাশাপাশি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

এই আদেশ অমান্য করা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের ১৯৯৩, ১৯৯৭, ২০০০ এবং এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬) আইন মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে কারও শাস্তি হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত নেই। গণমাধ্যমে ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য’ চেয়ে শেয়ারদর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেয়ার খবর প্রায়ই প্রকাশিত হয়।

গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না’। এতে বলা হয়, মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগকারীরা কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা, না করা, শেয়ার বিক্রি, কিংবা ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এ তথ্য গোপন রাখার কথা; কিন্তু হচ্ছে এর উল্টোটা। এ তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, এ তথ্য সবার আগে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আসার কথা। অথচ আসছে সবশেষে। ফলে সুযোগসন্ধানী চক্র ফায়দা লুটছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য এই প্রথম ফাঁস হচ্ছে, তা না। বলা যায়, নিয়মিতই ফাঁস হচ্ছে। কারণ জানতে চেয়ে দেয়া নোটিসের জবাবে কোম্পানিগুলো দেয় গৎবাঁধা জবাব আমাদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

স্টক এক্সচেঞ্জকে কোম্পানির দাবির সত্যতা যাচাই করে দেখতে হবে। প্রায়ই কিছু কোম্পানির পরিচালক অতিমূল্যের সুবিধা নিয়ে নিজেদের শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেয়। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় দুর্বল কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অসাধু ব্যক্তিরা প্রশ্রয় পায়। কর্তৃপক্ষসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত, কৃত্রিমভাবে দর বৃদ্ধির অপচেষ্টা রোধে কঠোর হওয়া।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..