প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মেক্সিকোতে প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিএমডব্লিউ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করের হুমকি দিলেও মেক্সিকোতে প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ। প্রতিষ্ঠানটি মেক্সিকোতে প্লান্ট স্থাপনে এক বিলিয়ন ডলার খরচ করবে, যেখানে অন্যান্য কোম্পানি দেশটিতে উৎপাদন থেকে সরে আসছে। খবর বিবিসি।

বিএমডব্লিউর সেলস ও মার্কেটিং ডিরেক্টর ইয়ান রবার্টসন বলেন, আমরা পুরোপুরি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মেক্সিকোতে নতুন প্লান্ট প্রতিষ্ঠা করব। এখানে তিন সিরিজে গাড়ি নির্মাণ করা হবে, যা উত্তর আমেরিকায় বিক্রি করা হবে। তিনি আরও জানান, বিএমডব্লিউ সাউথ ক্যারোলাইনায় এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। মূল্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় গাড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এটি।

রবার্টসন বলেন, এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করছি না। বিশ্বব্যাপী সক্ষমতা বাড়াতে বিএমডব্লিউ বিভিন্ন দেশে প্লান্ট বাড়াচ্ছে। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি ব্রাজিলে প্লান্ট বাড়িয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মেক্সিকোতেও প্লান্ট নির্মাণ করা হবে।

সম্প্রতি গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে আক্রমণাত্মক টুইট করছেন ট্রাম্প। টুইটে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির উদ্দেশ্যে মেক্সিকোতে গাড়ি তৈরি করলে কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের কর দিতে হবে অথবা কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রেই প্লান্ট স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

এতে ফোর্ড, জেনারেল মোটর ও টয়োটাসহ অনেক কোম্পানিই মেক্সিকোতে প্লান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা ভাবছে।

গত রোববার ফিয়াট ক্রিসলার অটোমোবাইলস (এফসিএ) ঘোষণা দিয়েছে, তারা তিনটি জিপ মডেল নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি মেক্সিকোতে র‌্যাম্প পিকআপ ট্রাক উৎপাদন পরিকল্পনা পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য করোলা গাড়ি তৈরির জন্য মেক্সিকোর বাজারে একটি নতুন প্লান্ট তৈরির কথা বলছে। কোনো রস্তা নেই! হয় যুক্তরাষ্ট্রে প্লান্ট স্থাপন কর অথবা বড় অঙ্কের সীমান্ত কর পরিশোধ কর।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেপি মর্গানের বিশেষজ্ঞ আকিরা কিশিমিটো বলেন, মেক্সিকোতে টয়োটার প্রবেশ খুব বেশি নয়। তিনি বলেন, যদি ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়, তাতে কোম্পানিটির মুনাফায় ছয় শতাংশ প্রভাব পড়বে। তবে মেক্সিকো থেকে গাড়ি আমদানিতে ট্রাম্প ৩৫ শতাংশ শুল্কারোপ করার হুমকি দিয়েছেন।

এছাড়া মেক্সিকোতে উৎপাদন নিয়ে ফোর্ড এবং জেনারেল মোটরসের সমালোচনাও করেছিলেন ট্রাম্প। টুইটে তিনি বলেন, ‘জেনারেল মোটর শুল্কমুক্তভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চেভি ক্রুজের মডেল মেক্সিকাতে তৈরি করছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা অথবা বড় ধরনের করও দেয়।’

ট্রাম্পের টুইটের পর মেক্সিকোতে এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্লান্ট নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড মোটরস। এর পরিবর্তে মিশিগান রাজ্যে কোম্পানিটির কার্যক্রম বাড়াবে বলে জানিয়েছে ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেটের ফ্ল্যাট রকে গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ৭০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে।

ফোর্ডের প্রধান মার্ক ফিল্ড বলেন, ছোট গাড়িগুলো বিক্রি কমে যাওয়ায় এবং ডোনাল্ট ট্রাম্পের নীতিতে ‘আস্থা ভোট’-এর অংশ হিসেবে মেক্সিকোতে প্লান্ট নির্মাণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে মেক্সিকোতে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করেনি ফোর্ড।  মুনাফা বাড়ানোর জন্য প্রধান কয়েকটি মডেলের উৎপাদন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক ভার্সনের গাড়িগুলো মিশিগানের নতুন প্লান্টে তৈরি করা হবে। পরিকল্পিত মেক্সিকো প্লান্টের দুটি গাড়ি এখানে স্থানান্তর করা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে তিন হাজার ৫০০ জনের চাকরি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ফ্ল্যাট রকে বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে ৭০০ চাকরি সৃষ্টি হবে।

ওহিওতে লর্ডস টাউন ফ্যাক্টরির ইউনিয়নপ্রধান গ্লেন জনসন বলেন, যাত্রীবাহী গাড়ি উৎপাদনে সীমান্তের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো বিরোধিতা ছিল না।

তবে ট্রাম্পের টুইটে আমরা একটি বার্তা পেলাম।

নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এনএএফটিএ) চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সীমান্ত পারাপারের সুযোগে কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে গাড়ি তৈরি করতে পারে। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের প্রচারে এর বিরোধিতা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চাকরি কমছে এবং শ্রম মজুরি তুলনামূলক সস্তা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শিল্পেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে আমেরিকার চাকরি বাড়াতে এসব শিল্পকে সীমান্তের বাইরে গিয়ে উৎপাদনে বাধানিষেধ আরোপ করবেন। তবে তার এ ঘোষণায় অনেক সমালোচনাকারীই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে করে আমদানিতেও প্রতিবন্ধকতা আসবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক।