প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মেডিকেল রিপোর্ট না আসায় পেছাল খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মেডিকেল রিপোর্ট না আসায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

গতকাল প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য তারিখ রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

যদিও আরও আগে শুনানির তারিখ চেয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এ সময় আদালতকক্ষের ভেতরে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের থামাতে না পেরে এক পর্যায়ে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারকরা। 

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তির পথ খুলবে।

গত ২৮ নভেম্বর তার জামিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন গতকাল আদালতে আসার কথা ছিল।

কিন্তু গতকাল সকালে আপিল বিভাগে শুনানির শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের ভিসি আমাকে ইনফর্ম করেছেন, খালেদা জিয়ার কিছু টেস্ট হয়েছে, কিছু টেস্ট বাকি আছে। এ জন্য সময়ের প্রয়োজন।’

প্রধান বিচারপতি এ সময় আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ সময় পুরোনো একটি মেডিকেল প্রতিবেদন আদালতে দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ।

অ্যাটর্নি জেনারেল তখন বলেন, ‘এ রিপোর্ট মেডিকেল বোর্ডের নয়। এর অথরিটি কারা? এ সম্পর্কে যা বলার, ওইদিন (১২ ডিসেম্বর) বলব।’

এ সময় শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতকক্ষের ভেতরেই হইচই শুরু করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেøাগানও দেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নিতাই রায় চৌধুরী এ সময় জুনিয়র আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে আদালতকক্ষে আটকা পড়েন।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও বার সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন, আজমালুল হোসেন কিউসি, ফজলে নূর তাপস, কামরুল ইসলামও আটকা পড়েন আদালতকক্ষে।

কয়েকবার চেষ্টার পরও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শান্ত না হওয়ায় বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে যান। ফলে আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..