প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চাই অগ্রগতি

দেশের সব হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা ইটিপি স্থাপনের কথা থাকলেও রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টন মেডিক্যাল বর্জ্য তৈরি হয় আর দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইটিপি আছে মাত্র চারটিতে। রোববার রাজধানীতে এক সেমিনারে এ চিত্র উঠে এসেছে। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশ, টেকসই মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় রাজধানীতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে স্বীকার করে এলজিআরডি মন্ত্রীও বলেছেন, বড় শহরগুলোর জন্য এটি এক বড় সমস্যা।

চিকিৎসা বর্জ্যরে ঝুঁকি সব দেশেই কমবেশি রয়েছে। উন্নত দেশগুলো সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটা মোকাবিলা করছে। আমাদের দেশে সাধারণ, ক্ষতিকারক, ধারালো, তরল, তেজস্ক্রিয় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সাধারণ বর্জ্যরে জন্য ছয় রঙের পাত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না কেউ। আবার ইটিপি বাধ্যতামূলক হলেও এটি রয়েছে মাত্র চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেÑবারডেম, অ্যাপোলো, স্কয়ার ও ইউনাইটেড হাসপাতালে।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব বর্জ্য প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণও ঘটাচ্ছে। প্রজাতন্ত্রের কোনো দায়িত্বশীলের এ বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ নেই।

এ-সংক্রান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণে এটা জারি হওয়ার তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালককে প্রধান করে প্রত্যেক বিভাগে ‘কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। বিধিমালায় চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণে উপযুক্ত ব্যক্তিকে লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন এবং প্রয়োজনে তা বাতিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

ওই ‘কর্তৃপক্ষ’ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে হয় না। দেশের হাজার হাজার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নেই, অথচ কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়নি। দেশে প্রতিদিন কী পরিমাণ চিকিৎসা-বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে, এ-সংক্রান্ত কোনো সঠিক তথ্য পরিবেশ ও বন বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেই, এটাও দুর্ভাগ্যজনক।

রাজধানীর চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চুক্তিবদ্ধ একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলো প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। এখানে দুই হাজারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তার সঙ্গে চুক্তি করছে প্রায় ৭০০টি। চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঠিকভাবে বর্জ্য সরবরাহ না করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহƒত উপকরণ পুনর্ব্যবহার বা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর সব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান সক্ষম কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মাতুয়াইল ছাড়া অন্য কোনো সিটি বা পৌরসভায় চিকিৎসা-বর্জ্য পরিশোধনে আলাদা স্থাপনা নেই।

বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদফতর কী কার্যক্রম নিয়ে থাকে, সেটির প্রতিবেদন ছক আকারে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। তা পাঠানো হয় কি না, চিকিৎসা-বর্জ্য বিধিমালা পরিপালনে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় আছে কি না; সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

সেবাধর্মী হলেও হাসপাতাল, রোগ নির্ণয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ইটিপির মতো ব্যয়বহুল স্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কালক্ষেপণ করতেই পারেন সংশ্লিষ্টরা। এ কাজে কিছু নীতিগত সহায়তা জুগিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করা যায় কি না, সেটিও ভেবে দেখা হোক।