প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মেলার প্রথম দিনে ৩২৩ কোটি টাকা আয়কর আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দশম আয়কর মেলা। ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ সেøাগানে মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ বছর দেশের আটটি বিভাগ, ৫৬টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি স্পটে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার প্রথম দিন করদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের পদচারণে মুখর ছিল মেলা। বিশেষ করে নারী ও তরুণ করদাতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। প্রথম দিন আয়কর সংগ্রহ হয়েছে ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৫ টাকা।

এদিন ৬৩ হাজার ২৭২টি রিটার্ন দাখিল, এক লাখ ৩৫ হাজার ৭৫৮ জনের সেবা গ্রহণ এবং চার হাজার ৩৬৬টি ই-টিআইএন নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। পরে মেলার বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখেন। এর আগে সকাল ৯টা থেকে মেলা শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৫টায় শেষ হয়।

আয়কর মেলার প্রথম দিনের আকর্ষণ ছিল অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কর প্রদান। মেলা উদ্বোধন শেষে অর্থমন্ত্রী তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের আয়কর বিবরণী এবং সাত কোটি ছয় লাখ ৭৮ হাজার টাকা কর পরিশোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার প্রতিনিধি সাবেক কর কমিশনার ছিদ্দিক হোসেন চৌধুরী আয়কর বিবরণী ও কর পরিশোধ করেন। তবে অনুমতি না থাকায় করের পরিমাণ জানানো হয়নি। এছাড়া গ্রামীণফোন ১৫০ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রায় ২৫ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেন।

আয়কর মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রথম দিন করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের ছিল প্রচণ্ড ভিড়। আয়কর রিটার্ন থেকে শুরু করে সব ফরম বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি রিটার্ন দাখিলের পর করদাতাদের আয়করের একটি ব্যাগ ও নাস্তা দেওয়া হচ্ছে। মেলায় করদাতাদের সেবায় পে-অর্ডার, ই-পেমেন্ট ও নগদ ক্যাশে চালানের ব্যবস্থা করেছে সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংক। এজন্য মেলা প্রাঙ্গণে খোলা হয়েছে ব্যাংকের জন্য আলাদা বিশেষ গ্যালারি। অনেক করদাতা ই-পেমেন্ট, পে-অর্ডার ও ক্যাশে চালান নিয়ে তথ্যের ধোঁয়াশায় পড়ছেন।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, মেলায় আয়কর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পে-অর্ডার গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকে গিয়ে পে-অর্ডার করতে হতো। বেসিক ব্যাংকের হিসাবধারীদের জন্য ২৩ টাকা এবং অন্যদের জন্য ৩৫ টাকা খরচ হতো। তবে গত বছর থেকে মেলা প্রাঙ্গণেই পে-অর্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাত দিনই ফ্রি পে-অর্ডার সার্ভিস চলবে। আবার যে কোনো ব্যাংকের ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ই-পেমেন্টও করা যাচ্ছে।

সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার মো. আল আমিন বলেন, মেলায় আসা করদাতাদের সুবিধায় পে-অর্ডার ও চালানের কপি নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। খুব সহজে পূরণ করে আয়কর জমা দিতে পারছেন তারা। চালান জমা দিলেই অনলাইনে ভেরিফিকেশন করা যাচ্ছে। পে-অর্ডার, ই-পেমেন্ট ও নগদ ক্যাশে চালান পে-অর্ডার দেওয়া যাচ্ছে। কয়েকজন করদাতা জানিয়েছেন, মেলায় পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, যেখানে বসে রিটার্ন পূরণ করা যায়। এছাড়া রিটার্ন পূরণে এনবিআরের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক।

মেলা সচিবালয় সূত্র জানায়, এ বছর মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে রকেট, নগদ, বিকাশ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে করদাতাদের আয়কর জমা প্রদান। করদাতাদের সুবিধার্থে এবারই প্রথমবারের মতো আয়কর মেলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। ফলে করদাতারা মেলায় না এসে ঘরে বসে নির্বিঘেœ আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন এবং আয়কর মেলা-সংক্রান্ত দেশব্যাপী সব আয়োজনের হালনাগাদ তথ্যাদি অবলোকন এবং করদাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় আয়কর রিটার্ন ফরম, চালান, ই-টিআইএন অ্যাপ্লিকেশন ফরম প্রভৃতি ডাউনলোড করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সূত্র আরও জানায়, এবারের মেলায় হেল্প ডেস্ক, রিটার্ন বুথ ও ই-পেমেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে ই-টিআইএন জোন ও রিটার্ন পূরণের স্থান। মেলা প্রাঙ্গণে এবার ৩৯টি হেল্পডেস্ক করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৩৩টি। রিটার্ন বুথ রাখা হয়েছে ৫২টি, যা গতবছর ছিল ৪৯টি। আর ই-পেমেন্ট বুথ করা হয়েছে ১৪টি, যা গত বছর ছিল একটি।

অপরদিকে, তিন ক্যাটেগরিতে ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হয়। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এ কার্ড প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করেন। করদাতাদের উৎসাহ ও ২০১৮-১৯ করবছরে সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তিন ক্যাটেগরিতে এ ‘ট্যাক্স কার্ড’ প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৪ জন, কোম্পানি পর্যায়ে ১০ ও অন্যান্য ক্যাটেগরিতে ১০ করদাতাসহ মোট ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ কর প্রদানের জন্য ৩৭৪ জন সর্বোচ্চ আয় করদাতা এবং ১৪৭ জন দীর্ঘ সময় আয়কর প্রদানকারীসহ মোট ৫২১ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..