স্পোর্টস

মেহেদির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রাজশাহীর শুভসূচনা

ক্রীড়া ডেস্ক: ঘরোয়া লিগে নিয়োমিতই ব্যাট-বল হাতে জ্বলে ওঠেন মেহেদি হাসান। তার প্রমাণ মঙ্গলবার আরও একবার তিনি রাখলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে। এদিন টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী পড়ে দারুণ বিপদে। তবে মিডেল অর্ডারে ব্যাট হাতে নিয়ে নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গী করে ঝড় তোলেন মেহেদি। শেষ পর্যন্ত তিনি এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি।

পরে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে বল হাতেও নিজের ঝলক দেখান এ স্পিনার। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের নাটকীয়কতায় তার নৈপুণ্যে বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে ২ রানের অবিশ্বাস্য জয় পায় রাজশাহী। এর ফলে এ টুর্নামেন্টের পথচলাতে শুভসূচনা করেছে দলটি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৫০ করেছেন মেহেদি। ৩ ছক্কায় ২০ বলে ৩৯ সোহান।

জবাবে ঢাকা থামে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানে। বল হাতে মেহেদি ২২ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ৬৫ রানেই হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। ঠিক সে সময় ২২ গজে নেমে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঢাকার বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন মেহেদি। অন্যদিকে তাকে ষষ্ঠ উইকেটে দারুণ সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। শেষ পর্যন্ত তাদের জুটিতে আসে ৮৮ রান। এরমধ্যেই মাত্র ৩১ বলে ৩ চার ও ৪ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মেহেদি। এর এক বল পরই তিনি ফেরন সাজঘরে। তার আগে অবশ্য রাজশাহীকে লড়াইয়ে পুঁজি পাইয়ে দেন এ ডানহাতি।

এদিকে বল হাতে মঙ্গলবার ওপেন করেন মেহেদি। শুরুটা বেশ ভালোয় করেছিলেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন এ স্পিনার। তারপরও তার মন কিছুতেই ভাল বলছিলো না। কেননা এদিন রাজশাহীর পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও আকবর আলি। তারা চতুর্থ উইকেটে দুর্দান্ত খেলে দলীয় স্কোর বোর্ডটাকে ৫৫ থেকে ১২৬ রানে নিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আকবরকে (৩৪) ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন আরাফাত সানি।

তবে অন্য প্রান্ত মুশফিক থাকায় পদ্মাপাড়ের দলটির মনে ভয় ছিল। তবে দ্রুতই মুশিকে (৪১) উইকেটের পেছনে সোহানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ইবাদত হোসেন। তাই জয়টা সময়ের ব্যাপারই মনে হয়েছিল রাজশাহীর। তবে ম্যাচের ১৯তম ওভারে ফরহাদ রেজার ৬ বলে ২১ রান নিয়ে মুক্তার আলি ম্যাচের চিত্রনাট্যই প্রায় পাল্টে দিয়েছিলেন। শেষ ওভারে ঢাকার জিততে দরকার ছিল ৯ রান। ঠিকে সে সময় রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বল তুলে নেন মেহেদির হাতে।

এ স্পিনার প্রথম তিন বল ডট দিয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন। পরের বলে অবশ্য চার হজম করেন তিনি। পঞ্চম বলটি অবশ্য তিনি করে বসেন নো। তারপরও হাল ছাড়েননি মেহেদি। ফ্রি হিটে কোন রান দেননি। শেষ বলে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে মুক্তারকে (২৭*) মাত্র ১ রান নিতে দেন তিনি। এর সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয় ২ রানের জয়ের উৎসবে মাতে রাজশাহী। বল-ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেহেদি হাসান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..