প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মেয়াদ পার হলেও দায়িত্ব ছাড়ছে না পরিচালনা পর্ষদ

টোয়াব নির্বাচনে অনিয়ম

হামিদুর রহমান: পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিশেয়ন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সীমাহীন দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ সদস্যরা। মেয়াদ পার হয়ে গেলেও পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব ছাড়তে চায় না বিদ্যমান কমিটি।
তথ্যমতে, বর্তমান কমিটির নির্বাচনকালীন সময়ের অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও অডিট-সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়নি। নানা অনিয়মের জেরে বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে বাদ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
উপ-সচিব কামরুজ্জামানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়।
গত ১৬ জুলাই এ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, পুরোনো কমিটির মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৮তে শেষ হয়। কিন্তু এরপর এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কমিটি নতুন নির্বাচনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।
ওই আদেশে মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। এজন্য কমিটিকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। কমিটির বক্তব্য মন্ত্রণালয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি। সুতরাং ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও সংগঠনে প্রশাসক না রাখতে হাইকোর্টে রিট করে বর্তমান কমিটি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উপ-সচিব কামরুজ্জামানের বদলে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
তথ্যমতে, বর্তমান সভাপতি তৌফিক উদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনী সময় পেরিয়ে গেলেও প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচন না করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। পর্যটন মেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সর্বশেষ পর্যটন মেলার আগে পরিচালক অর্থ আবদুল কালাম আজাদকে মারধর করে সভাপতি এক কোটি টাকার চেক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সভাপতি পদের অপব্যবহার করে নিজের ইচ্ছামতো নানা সিদ্ধান্ত নেওয়াই ক্ষুব্ধ সংগঠনটির সদস্যরা। বিষয়গুলো নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন সংগঠনটির অন্য সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টোয়াবের এক সদস্য জানায়, ‘সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি তৌফিক উদ্দিন অর্থের লোভে ক্ষমতা ছাড়তে চান না। তার কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে নির্বাচনের জন্য কোনো প্রস্তুতি নেননি। বরং নির্বাচন না করার জন্য তিনি বিভিন্ন কৌশলে বাধা প্রয়োগ করছিলেন।’
এ বিষয়ে তৌফিক উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এর আগে গত ২০ জুন মন্ত্রণালয় থেকে কমিটির সভাপতি (মেয়াদোত্তীর্ণ সম্বোধন করে) বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। এর অনুলিপি দ্য ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতির কাছে পাঠানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এই প্রশাসককে ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..