শেষ পাতা

মোট ঋণের পাঁচ দশমিক ৩৮% আবাসন খাতে

শেখ শাফায়াত হোসেন

আবাসন সংকট নিরসনে ব্যাংকঋণের অপর্যাপ্ততার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে, নতুন নতুন আবাসনের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে; কিন্তু সে হারে আবাসন খাতে ঋণ বিতরণ না বেড়ে উল্টো কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে মাত্র পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে আবাসন খাতে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এ হার ছিল পাঁচ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ছিল পাঁচ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছিল পাঁচ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০১৯ সালের জুন শেষে আবাসন খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৫৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। ওই সময় ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১০ লাখ তিন হাজার ৭৪ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে আরও দেখা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবাসন খাতের ছিল ৫১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণ স্থিতি আট লাখ ৩৫ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার মধ্যে আবাসন খাতের ঋণ ছিল ৪৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণ স্থিতি সাত লাখ এক হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার মধ্যে আবাসন খাতে ছিল ৪১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত কমে যাচ্ছে আবাসন খাতের ঋণহার।

তাছাড়া আবাসন খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে অর্ধেকের বেশি যাচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন  কেনা বা নির্মাণে। আবাসিক ভবন বা গৃহঋণ বলতে যে ধরনের ঋণ বোঝায়, সে ধরনের ঋণ তুলনামূলক কম। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালের জুন শেষে আবাসন খাতে বিতরণ করা ঋণ স্থিতির ৫৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকার মধ্যে ২৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা গৃহঋণ বা আবাসিক ভবন ঋণ রয়েছে। বাকি ২৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকার ঋণ গেছে বাণিজ্যিক ভবন কেনা বা নির্মাণে। অর্থাৎ, মোট ঋণের দুই দশমিক ৫৬ শতাংশ ছিল আবাসিক ভবনে এবং দুই দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল বাণিজ্যিক ভবনে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আবাসন খাতের ঋণে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। তারপরও ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণে অনীহা দেখায়। আমরা অনেক দিন ধরেই বলছি, এ খাতের জন্য আলাদা তহবিলের জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ২০০৯ সালে একবার আলাদা তহবিল হয়েছিল। কিছুদিন পরই ওই তহবিল বন্ধ হয়ে যায়। আলাদা তহবিল হলে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ কম সুদে গৃহঋণ নিয়ে আবাসন সংকট দূর করতে পারে। বিশ্বের সব দেশেই এ ধরনের তহবিল থাকে।’

দেশের ব্যাংকগুলো বর্তমানে ৭০:৩০ ঋণ-মার্জিন অনুপাতে আবাসন ঋণ দিয়ে থাকে। অর্থাৎ, বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে খরচ বা দামের ৩০ শতাংশ গ্রাহককে জোগাড় করতে হয়। বাকি ৭০ শতাংশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণ-মার্জিন অনুপাত ৮০:২০ করার বিষয়েও দাবি তুলেছিলেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ঋণ-মার্জিন পরিবর্তন করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে গৃহনির্মাণ ঋণের মার্জিন ৭৫:২৫ করা হয়।

এদিকে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক আবাসন খাতে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেয়। এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক ১০ থেকে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ১০ থেকে ১৩, দি সিটি ব্যাংক সাড়ে ১৩, ওয়ান ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, আইএফআইসি ও প্রাইম ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, প্রিমিয়ার ও এবি ব্যাংক সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ৯ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ, আইডিএলসি ফাইন্যান্স ১০ দশমিক ৫২ থেকে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া আরও বলেন, ফ্ল্যাট ও প্লটের নিবন্ধনসহ অন্যান্য মাশুল কমানোর জন্য আমরা সরকারের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করছি। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করছে।’ o

সর্বশেষ..