দিনের খবর শেষ পাতা

মোট কর্মীর ১৯ শতাংশ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। শিক্ষার হারে নারী-পুরুষ প্রায় সমান। সরকারি চাকরিতে নারীর অংশও ছাড়িয়েছে চোখে পড়ার মতো। পিছিয়ে নেই ব্যাংক খাতও। তবে এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ কম থাকলেও ধীরে ধীরে নারীকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ২৮ হাজারের বেশি নারী ব্যাংকে চাকরি করছেন। যদিও এ খাতে উচ্চপদে অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে নারী হাতেগোনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ব্যাংক খাতে যত লোক কাজ করেন, তার ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ নারী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ২২ হাজার ৫৩ জন নারী। তবে ২০২০ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫১০। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৮ জন নারীকর্মী, যা ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সে হিসাবে আড়াই বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে নারীকর্মীর হার বেড়েছে ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় নিলে এ খাতে নারীকর্মীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ৬ ব্যাংকে কর্মরত ৫০ হাজার ২২৪ জনের মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ৭ হাজার ৬৭০, যা মোট কর্মীর ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ। এর মধ্যে নারী বোর্ড সদস্য ৮.৭ শতাংশ, উচ্চ পর্যায়ের ১১.৫৮ শতাংশ, মধ্যম পর্যায়ের ১৫.৭৬ শতাংশ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের ১৫.২৬ শতাংশ নারীকর্মী রয়েছেন।

সরকারি বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ৩ ব্যাংকে কর্মরত ১৩ হাজার ৫৮৫ জনের মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৮২৭, যা মোট কর্মীর ১৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তাদের মধ্যে নারী বোর্ড সদস্য ১৩ শতাংশ, উচ্চ পর্যায়ের ৬.৯৮ শতাংশ, মধ্যম পর্যায়ের ১৩.৯৯ শতাংশ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের ১৩.৪৭ শতাংশ নারীকর্মী রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি ৪১ ব্যাংকে কর্মরত ১ লাখ ১০ হাজার ৭৭৮ জনের মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ১৭ হাজার ৬০৩, যা মোট জনবলের ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তাদের মধ্যে নারী বোর্ড সদস্য ১৪ শতাংশ, উচ্চ পর্যায়ের ৭.৩৫ শতাংশ, মধ্যম পর্যায়ের ১৫.৪৬ শতাংশ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের ১৬.৫৯ শতাংশ নারীকর্মী রয়েছেন।

তবে শতাংশের হিসাবে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি নারী কাজ করেন বিদেশি ৯ ব্যাংকে। এসব ব্যাংকে কর্মরত ৩ হাজার ৯২৭ জনের মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ৯৭৮, যা মোট জনশক্তির ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। তাদের মধ্যে নারী বোর্ড সদস্য ১৬.৬৭ শতাংশ, উচ্চ পর্যায়ের ২১.৩৫ শতাংশ, মধ্যম পর্যায়ের ২১.২৫ শতাংশ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের ২৭.৭৯ শতাংশ নারীকর্মী রয়েছেন।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকে সরকারই পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। নারী উদ্যোক্তা, সাবেক নারী ব্যাংকার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মচারীদের সরকারি ব্যাংকে পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় সরকার। আর বেসরকারি ব্যাংকে মূলত পরিচালকদের স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রবধূরা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে আছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, রাষ্ট্র খাতের ব্যাংকগুলোর নারীকর্মীদের কর্মসংস্থান বদলকৃত নারী কর্মকর্তার হার সরকারি ছয় ব্যাংকে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সরকারি বিশেষায়িত তিন ব্যাংকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ, বেসরকারি বণিজ্যিক ৪১ ব্যাংকে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, পড়ালেখা শেষ করে ব্যাংকগুলোয় প্রচুর নারীকর্মী যোগদান করলেও পরে তাদের অনেকে চাকরি ছাড়ছেন। মূলত কাজের চাপ, সন্তান লালন-পালন ও পরিবারের সদস্যদের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে এসব নারী ব্যাংকার মধ্যপর্যায়ে এসে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..