দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

মোবাইলে লেনদেন করছেন ৫১ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেন করছেন ৫১ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী। এ অ্যাপ ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী নিজে লেনদেন করাসহ পোর্টফোলিও সম্পর্কে সব তথ্য পেয়ে থাকেন। সে কারণেই মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৯ সাল শেষে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেনকারীর সংখ্যা ৫১ হাজার ১৯৯ জনে উন্নীত হয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, অ্যাপ ব্যবহার করে তারা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যে কোনো জায়গা থেকে নিজেই লেনদেন করা যায়। মোবাইল অ্যাপ চালুর আগে পোর্টফোলিও দেখার জন্য বিনিয়োগকারীদের ব্রোকারেজ হাউসে যেতে হতো। এখন যারা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তারা যে কোনো স্থান থেকেই নিজেদের পোর্টফোলিও দেখতে পারেন। মোবাইল অ্যাপে লেনদেন করা ছাড়াও ডিএসই মোবাইল কর্নারে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

২০১৯ সালে মোবাইলের মাধ্যমে মোট ৭০ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৮ আদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৬২৯টি কার্যকর হয়। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় মোবাইল অ্যাপস, যার ফলে সে বছর প্রথম চার মাসে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ে প্রায় সাত হাজার। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করে এমন রেজিস্টার্ড গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ হাজার ৯৭৬ জনে। পরের আট মাসে যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৮৬১ জন। আর  ২০১৮ শেষে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ হাজার। ২০২০ সালের শুরুতে তা ৫১ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

ডিএসই মোবাইল অ্যাপসে মোট তিন ধরনের সংস্করণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর; বাকি দুটি গ্রাহকের জন্য। যেসব বিনিয়োগকারী এ অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেনের আদেশ দিতে চান, তাদের জন্য ‘অর্ডার ভার্সন’ নামে একটি সংস্করণ রয়েছে। আর যারা দিনের লেনদেনের সবকিছু লাইভ দেখতে চান; কিন্তু লেনদেনের আদেশ সরাসরি দিতে চান না, তাদের জন্যও আরেক ধরনের সংস্করণ রাখা হয়েছে। ব্রোকারদের জন্য রাখা সংস্করণটির মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসগুলো ডিলার হিসেবে থাকা শেয়ারের সর্বশেষ তথ্য দেখা ছাড়াও কেনাবেচার আদেশ দিতে পারবে। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসগুলোও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের সম্পূর্ণ চিত্র দেখতে পারবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, এ প্রক্রিয়ায় লেনদেন করা তুলনামূলক সহজ। এতে সময়ও বাঁচে। যে কারণে দিন দিন এটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। এটি ব্যবহারের ফলে বিনিয়োগকারীরা বেশ উপকৃত হচ্ছেন। এর মাধ্যমে গ্রাহক নিজেই লেনদেন করতে পারেন। পাশাপাশি যে কোনো আর্থিক তথ্য দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে যায়। তাছাড়া দ্রুত ম্যানেজমেন্ট নোটিফিকেশন প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিও সম্পাদন এবং যে কোনো স্থান থেকে লেনদেনে অংশগ্রহণ করে তা সম্পন্ন করতে পারছেন।

ডিএসইর পরিচালক  ও ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ডিএসইতে মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছিল। বিষয়টিতে আমরা দারুণ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এরই মধ্যে আমরা আশানুরূপ সাড়া পেয়েছি। তবে বাজার পরিস্থিতি মন্দা না থাকলে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেত।’

তিনি বলেন, নিজের পোর্টফোলিও দেখা ছাড়াও ডিএসইর মোবাইল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এটি সম্পর্কে অন্যান্য সব তথ্য জানতে পারেন। সে কারণে মূলত এ ধরনের অ্যাপের প্রতি সবার আগ্রহ বেশি।

উল্লেখ্য, বিনিয়োগকারীদের লেনদেন পদ্ধতি সহজ করার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের ৯ মার্চ দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইতে সংযোজন হয় মোবাইল অ্যাপ। সে সময় শূন্য গ্রাহক নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..