প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মোবাইল ফোনে আসক্তি বিনাশ করছে শিশুর মেধাশক্তি

একসময় ছিল গ্রামের মাঠে-ঘাটে শিশু-কিশোররা মেতে থাকত বিভিন্ন খেলাধুলায়। আজ দিনবদল হয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দিনবদল হলেও প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আর বিকালবেলা শিশু-কিশোরদের মাঠে খেলতে দেখা যায় না। দেখা মেলে তাদের বাড়ির কোনায় বা রাস্তাঘাটের এক স্থানে বসে মগ্ন থাকে ভিডিও গেমস খেলায়।

খেলাধুলা বা গেম শব্দটার সঙ্গে জুড়ে আছে বিনোদন, উচ্ছ্বাস। আর এই বিনোদনের জন্য আমরা অনেক কিছু করে থাকি। যেমন নাটক বা মুভি দেখা, আড্ডা-গল্প, ফেসবুকিং আরও অনেক কিছু। কিন্তু বর্তমান সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অনলাইন গেমস। বিশেষ করে এর হারটা বেড়ে গেছে গত দুই বছর ধরে।

বর্তমানে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সমাজের প্রায় প্রতিটা মানুষের হাতেই স্মার্টফোন। ডিজিটাল বিশ্বে নিজেকে প্রযুক্তির সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে স্মার্টফোনই যথেষ্ট। প্রযুক্তির যুগে কে চাইবে সন্তানকে পিছিয়ে রাখতে। বরং তারাই শিখতে ও শেখাতে  তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। স্মার্টফোন তাদের যতটা স্মার্ট করে তুলছে তার চেয়ে দ্বিগুণ করছে নেশাগ্রস্ত। অভিভাবকদের অজান্তেই শিশুরা পা রাখছে অনলাইন গেম নামের নেশার জগতে। বুঝে না বুঝে মগ্ন হচ্ছে তারা অনলাইন গেমসের প্রতি। আর যখন তারা গেমসের প্রতি পুরোপুরি মগ্ন হয়ে পড়ে তখন দেখা দেয় তাদের আচরণের পরিবর্তন। তখন তাদের হাতে মোবাইল না দিলে চিৎকার-চেঁচামেচি করে, উচ্চৈঃস্বরে কথা বলে, রাগ দেখানো এবং অন্যান্য কাজে খুব বেশি মনোযোগ দিতে চায় না। গেম খেলতে না দেয়া কিংবা এমবি কেনার টাকা না দেয়ায় আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে আমাদের দেশে। ফলে বলাই যায় নিজ অজান্তেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন এসব অনলাইন ভিডিও গেমস নামক নেশা।

শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে শিশুরা খেলাধুলা থেকে সরে গিয়ে অনেকটাই মোবাইল ফোনে ভিডিও গেমসের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে শারীরিক ও মানসিক উভয়ই দিকেই মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে যেভাবে শিশু-কিশোররা অতিরিক্ত ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে এসব গেমসের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, জাপান, ইরানসহ আরও অনেক দেশ এসব অনলাইন গেম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য বাংলাদেশে এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ করা যায়নি। তরুণ প্রজš§কে আসক্তি থেকে মুক্ত করতে না পারলে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের এখন ক্ষত ছোট, ওষুধ দিলে সেরে যাবে, কিন্তু ক্ষত বড় হলে তা সারানো কঠিন হয়ে পড়বে।

অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সন্তানদের অনলাইন দুনিয়ায় মানবিক ও সুস্থ বিনোদনের উপায়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করে দেয়া। তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষার আগ্রহী করে তোলা। মাঠে গিয়ে খেলাধুলার ব্যবস্থা করা।

শামিল হোসেন

সিলেট