শেষ পাতা

মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহক প্রায় চার কোটি: নভেম্বরে দৈনিক লেনদেন ৭৩১ কোটি টাকা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের গত নভেম্বরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৩১ কোটি টাকা। যা আগের মাসের তুলনায় ছয় শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গ্রাহক বেড়ে প্রায় চার কোটিতে পৌঁছেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর তৈরি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। যা অক্টোবর মাসের চেয়ে ছয় শতাংশ বেশি। অক্টোবরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছিল ২০ হাজার ৬৯২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। দৈনিক লেনদেন হয়েছে ৭৩১ কোটি ১১ লাখ টাকা। যা অক্টোবর মাসে ছিল ৬৮৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন, ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন ও পারসন টু পারসন লেনদেন বাড়লেও বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও রেমিট্যান্সের অর্থ প্রেরণ কমেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে তিন কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসের চেয়ে প্রায় ছয় লাখ ৭১ হাজার বেশি। এর আগে ২০১৩ সালে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে পৌঁছায়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এক মাসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেন বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩২২ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। যা আগের মাসের তুলনায় ৭৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল ১৮৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ সময় ইউটিলিটি বিল পরিশোধ প্রায় এক দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের মাসে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ২০২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য বিল বাবদ লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা আগের মাসে ছিল ৩৬৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এক মাসের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ। যা নভেম্বরে বেড়ে হয়েছে এক কোটি ৫১ লাখ। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোনো ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-অ্যাকটিভ বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তিন মাসের মধ্যে একটি লেনদেন হলেও তা সক্রিয় হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য বড় কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না ব্যাংক। ব্যাংকগুলো সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং করতে পারে না বিধায় এ কার্যক্রমের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে। নির্ধারিত কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এজেন্ট নিয়োগ দেয় ব্যাংকগুলো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মনোনীত এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৬২৯ জন। অক্টোবর পর্যন্ত এজেন্টের সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ৭১ হাজার ৩৩৭ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের ২০টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং করার অনুমোদন পেলেও ১৮টি ব্যাংক বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছে। বর্তমানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মাধ্যমে সাত ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এগুলো হলো: ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স, ক্যাশ-ইন ট্রানজেকশন, ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন, পিটুপি ট্রানজেকশন, বেতন প্রদান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ। এছাড়া আরও কিছু সেবা আছে, যেগুলো সরাসরি উল্লিখিত ছয় ক্যাটাগরির কোনোটার অন্তর্ভুক্ত নয়; এ ধরনের সেবাগুলোকে অন্যান্য ক্যাটাগরির আওতায় বিবেচনা করা হয়। যেমন: স্কুল-কলেজের টিউশন ফি পরিশোধ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল নাগাদ দেশে মোবাইল ব্যাংকিং বিল পেমেন্ট সুবিধা গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে দুই কোটি ২০ লাখ। এ সময় দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় পাঁচ কোটি, যা দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শুধু টাকা পাঠানো বা উঠানো নয়, কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা বিতরণ, সরকারি অনুদানপ্রাপ্তি, মোবাইলে তাৎক্ষণিক ব্যালান্স রিচার্জসহ বিভিন্ন সেবাও এখন হাতের মুঠোয়। মোবাইল ব্যাংকিং এখন দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অতিপরিচিত একটি প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত। এর মাধ্যমে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে দেশের কোটি মানুষ। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সেবার স্থানীয় এজেন্টরা বাড়তি চার্জ নিচ্ছেন। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মে এক দশমিক আট শতাংশ চার্জ দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় নেওয়া হচ্ছে হাজারে ২০ টাকা।

উল্লেখ্য, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রথম শুরু হয় ২০১০ সালের ৩১ মার্চ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..