সম্পাদকীয়

মোবাইল রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ নিন

সারা বিশ্বে যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি। এতে অর্থনীতিতেও গতি এসেছে অনেক। সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও তিন দশক হতে চলল মোবাইল অপারেটরগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছে। ফোরজি সেবা চালুর পর ফাইভজি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেদিক দিয়ে দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে ভালো মানের সেবা পাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত। এ ধরনের সেবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে সত্য, তবে তা কাক্সিক্ষত মানের তুলনায় অনেক নিচে। পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা মোবাইল টাওয়ারগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে অনেক আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে।

‘বিটিআরসির দাবি: মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন মাত্রার মধ্যেই’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টাওয়ার থেকে বিকিরণের মাত্রা জরিপ করে মানব দেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। টাওয়ার রেডিয়েশন আন্তর্জাতিক ও বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের অনেক নিচে থাকায় আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও জানিয়েছে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের জরিপ অনুযায়ী আমাদের স্বস্তিতেই থাকার কথা। তবে অতীতে প্রকাশ হওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য স্বস্তিদায়ক নয় বলে অনেকের অভিমত।

২০১১ সালে মোবাইল টাওয়ার ও মোবাইল ফোন থেকে নিঃসৃত অতিমাত্রার গামা রশ্মি (রেডিয়েশন) জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এজন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রটেকশন (আইসিএনআইআরপি) গঠন করা হয়। কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রকাশ করেছে। বিটিআরসিও ২০১২ সালে নীতিমালা করে। তবে সে নীতিমালার কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের। এমনকি বিটিআরটির প্রকাশিত তথ্য নিয়েও সন্দিহান তারা। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হওয়ায় রেডিয়েশন নিয়ে দায়সারা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

বিটিআরসির দাবি অনুযায়ী, দেশে টাওয়ার রেডিয়েশনের ফল অত্যন্ত সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। টাওয়ার রেডিয়েশন নিয়ে বিভ্রান্তি আছে বলে দাবি সংস্থাটির। এছাড়া যারা বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা ভুল ধারণার ওপর আছেন বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তাদের এমন অবস্থান উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিটিআরসির জরিপ নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এজন্য দেশে  রেডিয়েশন পরিস্থিতি যা-ই হোক, তা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণসহ উপস্থাপন করা জরুরি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অধিকতর গবেষণা করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..