প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মৌলভিত্তির কোম্পানিতে আস্থা কমেছে সবচেয়ে বেশি!

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে দ্রুতগতিতে নেমে যাচ্ছে সূচক। চলতি সপ্তাহে তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এই তিনদিনে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১৭৮ পয়েন্ট বা প্রায় চার শতাংশ। সেই সঙ্গে ইসলামি শরিয়াহ্ আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ৩৬ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ব্ল– চিপ বা সবচেয়ে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক কমেছে প্রায় ৭০ পয়েন্ট বা চার দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে ভালো কোম্পানিগুলোর দরপতনের হার সবচেয়ে বেশি। দেশের বাজারে বেশিরভাগ সময়ে দুর্বল কোম্পানির দর বেশি বাড়তে দেখা যায়। আর যে বাজারে দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য বেশি থাকবে সে বাজারের ভিত্তিও দুর্বল হতে বাধ্য। আর দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকার ফলাফল আজকের বাজার চিত্র। এখন বাজারের এমন অবস্থা যে, সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বড় বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কেউ কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার আস্থা পাচ্ছেন না। ফলে বিনিয়োগকারী শূন্য হয়ে পড়ছে বাজার। গত তিন কার্যদিবসে লেনদেন চলছে কখনও ২০০ কোটি, কখনও ৩০০ কোটির ঘরে। দরপতন হয় ৭৬ শতাংশ কোম্পানির। বেড়েছে মাত্র ১২ শতাংশের দর। সব খাতে ছিল দরপতনের প্রতিযোগিতা।

মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ হয় ব্যাংক খাতে। এ খাতে ৭৩ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন হলেও ব্র্যাক ব্যাংকের দরপতন হয় এক টাকা ৮০ পয়সা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পাঁচ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় ৬০ পয়সা। পূবালী ব্যাংকের পাঁচ কোটি ৬১ লাখ, সিটি ব্যাংকের পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দুটি কোম্পানি দরপতনে ছিল। এরপরে বিমা খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ছয় কোটি ৯৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ২০ পয়সা। তবে দুই শতাংশ বেড়ে নিটোল ইন্স্যুরেন্স ও এক দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধিতে নবম ও দশম অবস্থানে উঠে আসে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৬৯ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। এসএস স্টিলের ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৭০ পয়সা।   কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। দরবৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইফাদ অটোসের দর বেড়েছে তিন শতাংশ। আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। তবে দুই দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে পদ্মা অয়েল ও দুই দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ডরিন পাওয়ার দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। ২৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে এডিএন টেলিকম। প্রথমদিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫০ শতাংশ বাড়লেও গতকাল দ্বিতীয় দিনে দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া সিমেন্ট খাতের লাফার্জ হোলসিমের ২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। বস্ত্র খাতে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। দেশ গার্মেন্টস দরবৃদ্ধিতে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল। বিবিধ খাতের ন্যাশনাল ফিড মিল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে।