প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

মৌলভীবাজারে দেখা দিয়েছে বন্যা

আব্দুল হাই, মৌলভীবাজার: নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্র ও শনিবারের টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদের নতুন দুটি ও পুরোনো চারটি ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ব্যাপক এলাকার আমন ফসল তলিয়ে গেছে। নিমজ্জিত হয়েছে কমলগঞ্জ-আদমপুর-কুরমা সড়ক। অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে চাতলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত গতিতে ঢলের পানি প্রবেশ করে একটি চা-বাগান এলাকাসহ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হালকা আকারে বৃষ্টি শুরু হলেও শুক্র ও শনিবার দুদিন অবিরাম বৃষ্টিতে কমলগঞ্জ উপজেলার সব পয়েন্টে ধলাই নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর গ্রামের ও আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের নতুন ভাঙন এবং ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা, বাঘবাড়ী, গোবিন্দবাড়ী ও মাঝেরগাঁও ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ গ্রাম এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরোনো ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি ও গ্রাম্য রাস্তা নিমজ্জিত হয়। কমলগঞ্জ-আদমপুর-কুরমা সড়কের শ্রীপুর ও তিলকপুর এলাকার প্রায় দুই কিমি সড়ক দেড় ফুট পানিতে নিমজ্জিত ছিল।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র রোববার জানান, ধলাই নদী ও লাঘাটাসহ সব পাহাড়ি ছড়ার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে পুরোনো সব ভাঙন এলাকা দিয়ে দ্রুত প্রবেশ করে গ্রাম্য রাস্তাঘাট নিমজ্জিত করছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের কালারায় বিল, শ্রীপুর, পাথারী গাঁও, কানাইদাশী ও গুলের হাওর গ্রাম, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, ছাইয়াখালী হাওর, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা, মাছেলগাঁও, ধলাইরপাড়, ভাষানীগাঁও ও বনগাঁও, কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ কুশালপুর, আলেপুর ও দক্ষিণ কুমড়া কাপন, পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপশপুর, শমশেরনগর ইউনিয়নের শিরাউলী, মরাজানের পর, সতিঝিরগাঁও, গ্রামের ব্যাপক এলাকার আমন ফসল নিমজ্জিত হয়।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পূর্ণ কুমার সিংহ জানান, প্লাবনের পানিতে ইসলামপুর ইউনিয়নে ২০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। শ্রীপুর এলাকার ধলাই নদের পুরোনো ভাঙন দিয়ে দ্রুত ঢলের পানি প্রবেশ করছে গ্রামে। উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার সিংহ জানান, রোববার সকালে তারা প্রাথমিকভাবে ২০০ হেক্টর জমির আমন ফসল নিমজ্জিত হওয়ার তথ্য জেলা অফিসে পাঠিয়েছেন। তবে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক এলাকার শীতকালীন শাকসবজি বিনষ্ট হওয়ার সত্যতাও নিশ্চিত করেন তিনি। তিনি আরও জানান, রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখন আলীনগর, শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলে অবস্থার আরও অবনতি হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, রোববার দুপুর থেকে ধলাই নদের পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় উপারাংশের উন্নতি হচ্ছে। তবে এখন নি¤নিন্মাঞ্চলের অবনতি হচ্ছে। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ পরিস্থিতির উপর সার্বিক নজরদারি করছে।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু নদের বাঁধ ভেঙে দ্রæত ঢলের পানি প্রবেশ করে পালকী ছড়া চা-বাগান, ইটারঘাট, কালারায়ের চর, মনোহরপুর, দত্তগ্রামসহ অন্যান্য গ্রাম নিমজ্জিত হচ্ছে। শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, রোববার রাত ১২টায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করছে গ্রামে। এতে অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। তাছাড়া পানির স্রোতের আঘাতে মনু সেতুও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানন, তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মনু ও ধলাই নদীর সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছেন।