মত-বিশ্লেষণ

মৌলিক চাহিদা পূরণে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন

ইউনিসেফ মা-বাবা, কমিউনিটির নেতা ও অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করেছে, যে কমিটিগুলো শিশু বিয়ে, নিগ্রহ ও শোষণের মতো সুরক্ষা বিষয়গুলো প্রতিরোধ করার জন্য অগ্রগামী কমিউনিটি মনিটরিং ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। স্কুল পরিচালনা কমিটিগুলো যাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে সে জন্য তাদের সহায়তা দিতে কার্যকর অনুদান দেয়ার মাধ্যমে ইউনিসেফ কক্সবাজার জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহায়তা দিচ্ছে। এই অনুদানের অর্থ ৬৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে সহায়তা দিচ্ছে।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারে নিরাপত্তার সন্ধান শুরু করার তিন বছর পরে উদার মনোভাব সম্পন্ন দাতাদের সহায়তায় এবং বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে ব্যাপক মানবিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে। তবে কাজ কোনোভাবেই শেষ হয়ে যায়নি এবং কভিড-১৯ যে বিপদের হুমকি তৈরি করেছে তাতে অবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের পরিবার এখনও তাদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকা ও সুস্থতার জন্য মানবিক সহায়তা ও ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

কভিড-১৯ মহামারির আগে ইউনিসেফ ও তার সহযোগীরা অন্য সহায়তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে একত্রে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে কাজ করে আসছিল। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদাগুলো মেটাতে, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের শিক্ষা চাহিদা মেটানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে এত লোকের পক্ষে এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বসবাস করা মোটেই টেকসই নয়, যেখানে রোগের প্রাদুর্ভাব, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

চূড়ান্তভাবে, এই সংকটের সমাধান আছে মিয়ানমারেই। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সমাজের পূর্ণ সদস্য হিসেবে তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে ও সৌহার্দ্যময় পরিবেশে বসবাস করার জন্য নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আশা এবং আকাক্সক্ষা বারবার প্রকাশ করেছে। ইউনিসেফ মিয়ানমার সরকারকে এমন একটি পরিস্থিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানায়, যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ ধরনের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারগুলো যাতে নিজেদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয় এবং আরও উন্নত ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখে সে জন্য তাদের অধিকারের স্বীকৃতি আদায়ে ইউনিসেফ কাজ করে যাচ্ছে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..