দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

মৌসুমে পেঁয়াজ মজুত করবে সরকার

শেখ আবু তালেব: পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বার্ষিক চাহিদা ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে তা সংরক্ষণ করা হবে। এ সময়ে কৃষকদের দেওয়া হবে স্বল্প সুদে ঋণ। পেঁয়াজ পণ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ তথা সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এরপর সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুমে কৃষককে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলা হয়। বাংলাদেশে পেঁয়াজের ভালো মানের বীজ আমদানির বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কৃষক পর্যায়ে ভালো মানের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় কৃষি মন্ত্রণালয়কে। পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুমে স্বল্প দাম হওয়ায় কৃষকদের বাঁচানো ও সারা বছর দর সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

উৎপাদন মৌসুমের সময়ে পেঁয়াজ ক্রয় করে সরকারি পর্যায়ে মজুত করা হবে। পরে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রয় কর হবে। পেঁয়াজের দর ঠিক রাখতে মৌসুমের সময়ে আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে সবাই একমত হন। ফলে আগামী মৌসুমের সময়ে পেঁয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর পরিসংখ্যান তৈরির জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। হালনাগাদ পরিসংখ্যানে বছরভিত্তিক উৎপাদন ও চাহিদার তথ্যটি হালনাগাদ করার বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ আবশ্যকীয় উপাদান। মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানি করতে হয়। আমদানির প্রধান উৎস দেশ হচ্ছে ভারত। দেশটিতে পেঁয়াজের দামের সঙ্গে বাংলাদেশেও দর ওঠানামা করে পণ্যটির।

সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় ২০ টাকা কেজি পেঁয়াজের দর ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পাকিস্তান, মিসর, মিয়ানমার, তুরস্ক ও চীন থেকে দ্রুত গতিতে পেঁয়াজ আমদানি করে কিছুটা স্থিতিশীল রাখে। সর্বশেষ গতকাল পণ্যটি ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গড়ে এক লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়। অন্যদিকে কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে দেশে ২৫ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে আবার ২৫ শতাংশের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায় উৎপাদন ও বিপণনে। এ পরিমাণ পেঁয়াজ দিয়ে মোট চাহিদার ৫৭ শতাংশ মেটানো সম্ভব।

পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ১০০ টন বীজের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে কৃষি অধিদপ্তর বিতরণ করা হয় পাঁচ থেকে ছয় টন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন করে ৫০ থেকে ৬০ টন। অবশিষ্ট বীজ কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশের পেঁয়াজের বীজ দিয়ে দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশে মোট পেঁয়াজের চাহিদা হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টন। চাহিদার অবশিষ্ট এ অংশের পেঁয়াজ আমদানিতে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। পেঁয়াজে স্বয়ম্ভর হতে হলে উৎপাদন করতে হবে বার্ষিক কমপক্ষে ৩৫ লাখ টন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..