প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ময়মনসিংহে হাইব্রিড টমেটো চাষিরা বিপাকে

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ময়মনসিংহে হাইব্রিড টমেটোর ফলন বিপর্যয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টমেটোগাছ ফুলে ফলে ভরে যায়। মাঠজুড়ে টমেটো উত্তোলনের ধুম পড়ে। এবার গাছ মোটাতাজা ও চার-পাঁচ ফুট লম্বা হলেও টমেটো ধরেনি। খবর বাংলা ট্রিবিউন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রায় ১১০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ করে লাভবান হন চাষিরা। এ বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। টমেটো চাষে বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ আলতাবুর রহমান জানান, মোটাতাজা হয়ে গাছ বড় হয়েছে, তবে ফুল ও টমেটোর ফলন কম দেখা যাচ্ছে। জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ফলন আসছে না। তাই চাষিদের ক্ষেতে পটাশ সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে খারাপ বীজের কারণেও সমস্যা হতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

সদর উপজেলার বোররচর, বাঘেরকান্দা, কাচারিপাড়াসহ চরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে টমেটো ক্ষেতে শুধু গাছ, তাতে টমেটোর ফলন নেই। টমেটোর ফলন বিপর্যয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার চাষি। এতে চাষিদের আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক অর্ধশত কোটি টাকার মতো হবে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এ সময়ে (ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে) টমেটোগাছ ফুল আর ফলে ভরে যায়। মাঠজুড়ে টমেটো উত্তোলনের ধুম পড়ে। প্রতিদিনই কমপক্ষে শতাধিক ট্রাক টমেটোসহ নানা সবজি নিয়ে যায় আড়ত থেকে। গত বছর ১০০ কোটি টাকার ওপরে সবজি আড়তে বেচাকেনা হয়েছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোরোরচর কুষ্টিয়াপাড়ার টমোটোচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, তিন-চার বছর ধরে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করছেন। লাভের আশায় এবারও কনক জাতের বীজ দিয়ে টমেটো চাষ করেছেন। গাছ মোটাতাজা হয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা হয়েছে। জমি তৈরি, বীজ, শ্রমিক ও রাসায়নিক সারসহ টমেটো আবাদে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছ মোটাতাজা ও অনেক লম্বা হয়েছে, কিন্তু ফলন নেই বললেই চলে। এখন লাভ তো দূরে থাক খরচই উঠবে না।

বোররচরের চাষি হারুন জানান, বোররচর, বাঘেরকান্দা ও কাচারিপাড়া গ্রামে এবার এফ-১ হাইব্রিড ‘কনক’, ‘রাজা-১’ ও ‘মঙ্গলরাজা’ জাতের টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে যারা ‘কনক’ ও ‘রাজা-১’ চাষ করেছেন তারাই বেশি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।

মৃধাপাড়ার আব্দুল বারেক জানান, ছয় কাঠা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছেন। তিন কাঠায় ছিল ‘কনক’ আর বাকিটা ছিল ‘রাজা-১’ টমেটো। ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার ওপরে। বাঘেরকান্দা গ্রামের ফরহাদ হোসেনও একই কথা জানান। এছাড়া চাষি আশরাফুল জানান, প্রায় এক একর জমিতে রাজা-১ জাতের টমেটো চাষ করেছিলেন, সব গাছ মরে গেছে।

বোররচর বাজারের ডিলার নুরুল ইসলাম জানান, গত বছর বাম্পার ফলন পেয়ে চাষিরা এবার তার কাছ থেকে এফ-১ হাইব্রিড কনক জাতের এক হাজার ২০০ প্যাকেট বীজ নিয়েছেন। বীজ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এগ্রিকনসার্ন লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী মাহবুব মোরশেদ জানান, ময়মনসিংহ ছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবে ‘কনক’ টমেটো চাষে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।