সম্পাদকীয়

যত্রতত্র পশুর হাট ঠেকাতে সচেষ্ট হোন

করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কভিড) কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। যত দিন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো ওষুধ সুলভ না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর হাট বসবে, সেটি নিয়ে অনেক আলেচনা হচ্ছে। একদিকে সংক্রমণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে কোরবানির ধর্মীয় দিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। প্রতি ঈদুল আজহায় পুরো বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয়।

চামড়াশিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শিল্প। বিশ্বে আমাদের তৈরি চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে কেবল চামড়া খাতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহে গুরুত্ব দিতেই হবে। চামড়ার কেনাবেচায় প্রধান সুবিধাভোগী হয় সমাজের দুস্থ, অসহায় মানুষ। চামড়া বিক্রির অর্থ কোরবানিদাতারা দুস্থ-এতিমদের দান করেন। তাই কোরবানির ধর্মীয় দিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব কম নয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে কোরবানির পশুর হাট বসানো হলে সংক্রমণ ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়, সেটিও বাস্তবতা। বলা যায়, করোনাকাল জীবন ও জীবিকাকে মুখোমুখি করে দিয়েছে।

এবার লাখ লাখ গবাদি পশু রয়েছে দেশের খামারগুলোয় এবং ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পশু পালন করেন এ সময় বিক্রির জন্য। উভয় দিকই দেখতে হবে। স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশে মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব নয়। এও সত্য, অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনার সক্ষমতা ক্রেতা-বিক্রেতা কোনো পক্ষেরই নেই। তাই কোরবানির পশুর হাটই ভরসা।

গত ঈদুল ফিতরে ব্যক্তিগত পরিবহনের নামে মানুষকে ঢাকা ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেটির কুফল সবারই জানা কভিড ছড়িয়েছে সারা দেশে। এখন খোলা মাঠে পশুর গরুর হাট বসানো হলে আরও বড় বিপদের শঙ্কা। কেননা স্বাস্থ্যবিধি যথযাথ পালনের দৃষ্টান্ত আমাদের নেই।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএসসিসি এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর বাইরে যেন কোনো হাট না বসে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যত্রতত্র পশুর হাট না বসানোর কথা বলা হলেও সেটি কতটা কার্যকর হয় সেটিই প্রশ্ন। স্বাস্থ্যবিধি যেন যথারীতি পরিপালিত হয়, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনোভাবেই নির্ধারিত স্থারে বাইরে এবং আবাসিক এলাকায় পশুর হাট বসানো যাবে না। অনলাইন বাজার শক্তিশালী করার কথা যতই বলা হোক, অন্তত এ বছর সম্ভব নয়। কোরবানির হাট এবং কোরবানি কোনোভাবেই যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারও প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয়ে চাপে পড়ে ছাড় দিতে হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..