দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

যত্রতত্র স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ

আয়নাল হোসেন: যত্রতত্র স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে কোথাও কোনো স্বাস্থ্য স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সেখানে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি সমন্বয় সেল গঠন করেছে। সমন্বয় সেলের প্রথম বৈঠক গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় অসংখ্য স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আবার অনেক স্থাপনায় যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে। কিন্তু তা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নেই। এসব স্থাপনা ও যন্ত্রপাতিতে রাষ্ট্রের বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যয় হলেও জনগণের কোনো কাজে আসেনি। কারণ শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সেবা মিলবে না, সেখানে সেবা দেওয়ার মতো দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট থাকতে হবে। পাশাপাশি রোগ নির্ণয়সহ অস্ত্রোপচারের সব ধরনের যন্ত্রপাতিও থাকতে হবে। এজন্য সরকার স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি স্থাপন যাতে একসঙ্গে করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে।

সমন্বয় সেলের প্রথম বৈঠক গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সাইদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্য স্থাপনা-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এর ব্যবহার নিশ্চিত করার স্বার্থে আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, জনবল পদায়নসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় করার লক্ষ্যে এই কমিটি কাজ করবে।  

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য স্থাপনা-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এর ব্যবহার করার স্বার্থে আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও জনবল পদায়নসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড সমন্বয় করার লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি ‘সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের সেল গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, যুগ্ম সচিব প্রশাসন, উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (স্বাস্থ্য উইং) গণপূর্ত অধিদপ্তর, লাইন ডাইরেক্টর হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট, লাইন ডাইরেক্টর কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিসিএইচসি), লাইন ডাইরেক্টর উপজেলা হেলথ কেয়ার (ইউএইচসি) ও যুগ্ম সচিব/উপসচিব ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন (সিবিএমইএ) অধিশাখা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।   

এই কমিটির কর্মপরিধির ব্যাপারে বলা হয়েছে (ক) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা অনুবিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য স্থাপনা-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ; (খ) নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই জনবল, আসবাবপত্রসহ আনুষঙ্গিক সব বিষয় সমন্বয় করা; (গ) যথাসময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা, ব্যবহারকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা এবং কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা; (ঘ) স্বাস্থ্য স্থাপনা নির্মাণ ও সমন্বয়-সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব এবং (ঙ) কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।   

স্বাস্থ্যের অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে জানতে চাইলে কনজুমার হেলথ রাইটস ফোরামের সমন্বয়ক ইবনুল সাঈদ রানা শেয়ার বিজকে বলেন, অনেক স্থানে হঠাৎ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। আবার সেখানে দামি যন্ত্রপাতিও আনা হয়েছে। কিন্তু সেসব পরিচালনা করার জন্য জনবল সেখানে ছিল না। ফলে তা অব্যবহƒত হয়েই পড়ে থাকত। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের সমন্বয় সেল গঠনটি ইতিবাচক। তবে এই সেল যাতে কার্যকর থাকে, সে ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের উপজেলা পর্যায়ে যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তাহলে জনগণ সেখান থেকে উপকৃত হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমন্বয় সেলের আহ্বায়ক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে যেসব অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা দূর করতেই সমন্বয় সেলটি গঠন করা হয়েছে। এটি যাতে সক্রিয় থাকে, সে লক্ষ্যে চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান তিনি। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..