সারা বাংলা

যবিপ্রবির শিক্ষার্থী শাকিল সাময়িক বরখাস্ত

প্রতিনিধি, যশোর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সনাতন ধর্মের দেবদেবী নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গতকাল শনিবার দুপুরে যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের জরুরি সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। যবিপ্রবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সুমন চন্দ্র মোহন্ত। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মো. মেহেদী হাসান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. হাফিজ উদ্দিন এবং সদস্য সচিব কর্মকর্তা সমিতির সহসভাপতি মো. নজরুল ইসলাম।

কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সমাদৃত। আর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাম্প্রদায়িক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে কেউ সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। যার যার ধর্ম তার তার পালনের অধিকার রয়েছে। এখানে কেউ সাম্প্রদায়িকতার উম্মাদনা ছড়ালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির ডিন ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. নাসিম রেজা, ড. মো. মেহেদী হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..